ঈদের তৃতীয় দিনেও রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ঈদ আনন্দ মেলা। ঈদের ছুটিকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলার প্রাঙ্গণগুলো। পুরান ঢাকার ঈদ আনন্দ মেলা নগরবাসীর জন্য বাড়তি আনন্দ ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি করেছে, যা ঈদের উৎসবকে আরও বর্ণিল করেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর লহ্মীবাজার, শাঁখারি বাজার, ইংলিশ রোড ও ধোলাইখাল এলাকার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকে শুরু হওয়া এসব মেলায় নাগরদোলা, বিভিন্ন রাইড, খেলনা, মাটির তৈরি পণ্য, হস্তশিল্প এবং বাহারি খাবারের স্টল বসেছে।বিশেষ করে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও বিনোদনের আয়োজন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সময় কাটাচ্ছেন এসব মেলায়।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেখা গেছে নাগরদোলা, সার্কাস প্রদর্শনী এবং ছোট ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে।
দর্শনার্থীরা জানান, ব্যস্ত নগর জীবনে এমন আয়োজন কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এই মেলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পাতলাখান লেনের বাসিন্দা মো. ইউসুফ ৫ বছরের ছেলে ও ৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ঈদে দূরে কোথাও যাওয়া হয় না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখানে এসেছি।
নাগরদোলা, ডান্সিংবোটসহ অন্যান্য রাইডে চড়েছে। এখন ফুচকা খাবে, এরপর কিছু কেনাকাটা করবে, তারপর বাড়ি যাবে। বাসার কাছে এতো সুন্দর মেলার আয়োজন করায় আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ।
আরমানি টোলা থেকে পরিবার নিয়ে ইংলিশ রোড মেলা প্রাঙ্গনে এসেছেন মো. কাদের খান। তিনি বলেন, ব্যস্ত শহরে আসলে পরিবার নিয়ে কোথাও বের হওয়া হয় না।মেলা হচ্ছে শুনে বাচ্চা জেদ ধরলো, তাই এসেছি। ভালোই লাগছে। পরিবারের সাথে একটু আলাদা, নিজের মতো সময় কাটাতে পেরেছি।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৭ বছরের তাহমিনা আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, মেলায় ঘুরে ভালো লাগছে। আব্বু-আম্মুর সঙ্গে এসেছি, বিভিন্ন রাইড যেমন নাগরদোলা, রেলগাড়িতে চড়েছি। খেলনা, মাথার ক্লিপ, গলার মালা কিনেছি। এখন আইসক্রিম ও চটপটি খেয়ে বাড়ি যাবো।
দোকানিরা জানান, ঈদকে ঘিরে বিক্রি ভালো হচ্ছে। খেলনা, মিষ্টি, ফুচকা, চটপটি, জিলাপিসহ বিভিন্ন খাবারের স্টলে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
ধোলাইখালে খেলনা নিয়ে দোকান বসিয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঢাকাতে ছোটখাটো সব ধরনের মেলাতে যাই। আমি চকবাজার থেকে পাইকারি খেলনা এনে বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করি। আজকে ভালো বিক্রি হয়েছে। ঈদে বাড়ি যাইনি, শুধু এই মেলার জন্য। আগামী সপ্তাহে বাড়ি যাবো।
শাঁখারিবাজারের সামনে বাচ্চাদের বিভিন্ন রকমের সাজগোছের জিনিস নিয়ে বসেছেন মনিরুল আলম। তিনি বলেন, ঈদকে ঘিরে বিক্রি ভালো হচ্ছে। মেলা ছোট হলেও মানুষের আগ্রহ আছে। ছুটির দিন একটু বিনোদনের জন্য সুযোগ পেলেই লোকজন চলে আসছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলবে মেলা।
এদিকে মেলার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। কোথাও কোথাও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।