ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। কিন্তু সেই আনন্দের দিনেও দায়িত্বের জায়গা থেকে একচুল নড়েন না কিছু মানুষ। রোগীর জীবন বাঁচানোর দায় কাঁধে নিয়ে পরিবারের উৎসব ছেড়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডেই কাটে তাদের ঈদ। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সরকারি পর্যায়ে দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। বছরের ৩৬৫ দিনই এখানে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে যেমন ছুটি নেই, তেমনি ঈদুল ফিতরের দিনেও থেমে থাকেনি সেবা কার্যক্রম। বরং এদিন রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) দেশব্যাপী ঈদুল ফিতরের ছুটির দিনে হাসপাতালটিতে প্রায় চার ঘণ্টা সশরীরে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন ঢাকা মেডিকেলের উপ-পরিচালক ডা. মো. আশরাফুল আলম। তিনি রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্যসেবার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য বরাদ্দ বিশেষ খাবার পরিবেশন কার্যক্রমও দেখেন।
এ সময় রোগীদের কথা বিবেচনা করে যারা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে খোঁজখবর নেন এবং উৎসাহ জোগান।
২৬০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে চার হাজারেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। এত চাপের মধ্যেও কখনও রোগী ফেরায় না হাসপাতালটি। ঈদের ছুটিতেও জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ কমেনি। ইনডোরে ঈদের দিনেও দুই হাজারের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। আশপাশের অনেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এ সময়ে স্বাস্থ্যসেবা সীমিত থাকায় ঢাকা মেডিকেলের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
ঈদের ছুটিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উপ-পরিচালক ডা. মো. আশরাফুল আলম বলেন, ঈদের ছুটিতেও প্রায় ৩০০ চিকিৎসক, পাঁচশর বেশি নার্স এবং প্রায় এক হাজার অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্যাথলজি, রেডিওলজিসহ সব জরুরি সেবা চালু রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার কোনো ছুটি নেই। ঈদের দিনেও রোগীদের সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত। দেশের অন্যতম শীর্ষ এই হাসপাতালকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সীমিত সম্পদ দিয়েই রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতেও যারা পরিবার ছেড়ে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের প্রতি হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে।
অত্যধিক রোগীর চাপ বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের প্রয়োজন বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।