বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ৭ দিনের জন্য থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ৭ দিনের জন্য থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে সাতদিনের জন্য মোতায়েন থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

সাম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ওই সভার কার্যবিবরণী থেকে জানাগেছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ

১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাত দিনের জন্য, নির্বাচনের আগে চারদিন, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরে দুইদিন মোতায়েন থাকবে।

২. আনসার ভিডিপি ৮ দিনের (নির্বাচনের আগে ৫ দিন প্রশিক্ষণের দিনসহ, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরে ২ দিন) জন্য মোতায়েন করতে হবে।

৩. প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনে ১৬ প্লাটুন বিজিবি এবং বগুড়া-৬ আসনে ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হবে। তবে স্থানীয় মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সংখ্যা কম/বেশি হতে পারে।

৪. প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।পুলিশ সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতার আলোকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পুলিশ সুপারকে প্রদান করতে হবে। তবে রিটার্নিং অফিসার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যের সংখ্যা কম বেশি করা যাবে।

৫. সকল বাহিনীর সদস্যকে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা সেল গঠন করতে হবে।

৬. আইন-শৃঙ্খলা সেল রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে।

৭. অবৈধ ও হারানো অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী ও পেশাদার অপরাধীকে আটক করতে হবে।

৮. আইন-শৃঙ্খলা ডিপ্লয়মেন্ট/মোতায়েন সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হবে ও সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং রিজার্ভ থাকবে।

৯. হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহে স্থানীয় সরকারের চৌকিদার, দফাদার এবং আনসার ও ভিডিপি-এর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

১০. ভোটকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প তৈরি করা যাবে না।

১১. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যায় প্রকল্প পরিচালক, আইডিইএ-২ প্রকল্পের নেতৃত্বে একটি আইন-শৃঙ্খলা সেল নির্বাচন কমিশনেও ৭ দিনের জন্য গঠন করতে হবে।

১২. প্রতি ভোটকেন্দ্রে একাধিক বডি ওর্ন ক্যামেরা পুলিশ সুপারের চাহিদা অনুযায়ী প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্যামেরা সংখ্যা বাড়ানো হবে।

১৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনে সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।

১৪. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ১৬ মার্চের মধ্যে পরিপত্র জারি করতে হবে।

১৫. রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ২৪ মার্চের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা সেলের প্রথম মিটিং সম্পন্ন করতে হবে।

১৬. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

১৭. নির্বাচনের ৩ দিন আগে থেকে ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা সচল রাখা নিশ্চিত করতে হবে। যে কক্ষে সিসি ক্যামেরা আছে সে কক্ষে ভোট গণনা করতে হবে এবং নির্বাচন শেষে সিসি ক্যামেরার তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শেরপুর-৩ আসনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল তালেব মো. সাইফুদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মো. মাসুদুর রহমান, স্বতন্ত্র থেকে মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় ভোট স্থগিত করে ইসি। পরবর্তীতে নতুন তফসিল দিয়ে নির্বাচন করছে সংস্থাটি।

এছাড়া বগুড়া-৬ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মো. আবিদুর রহমান, বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল আলিম তালুকদার।

এই আসনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করে জয়ী হন। কিন্তু সংসদে একই সঙ্গে দুটি আসনের সদস্য থাকার আইন না থাকায় ঢাকা-১৭ আসনটি ধরে রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। পরবর্তীতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নতুন করে তফসিল দেয় কমিশন।

তফসিল অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দ ১৫ই মার্চ এবং ভোট গ্রহণ ৯ এপ্রিল।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS