মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হতে পারে। স্পেস সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত গণনার ভিত্তিতে এই পূর্বাভাস দিয়েছে শারজাহ একাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি।
শারজাহ একাডেমির জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী ১৪৪৭ হিজরি সালের রমজান মাস এবার ৩০ দিন পূর্ণ করতে পারে। সেই হিসাবে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৮ মার্চ (বুধবার) রমজানের ২৯তম দিন এবং চাঁদ দেখার রাত। তবে ওই দিন পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাবে, ফলে নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব হবে না। এর ফলে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রমজান মাসের ৩০তম দিন পূর্ণ হবে।
পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে শারজাহর আকাশে নতুন চাঁদ উঠবে।সূর্যাস্তের সময় চাঁদটির বয়স হবে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ৬ মিনিট। সূর্য থেকে এর কৌণিক দূরত্ব থাকবে ৬.৫ ডিগ্রি এবং দিগন্ত থেকে এর উচ্চতা হবে ৬ ডিগ্রি। সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত চাঁদটি আকাশে অবস্থান করবে।
তবে গাণিতিক এই হিসাবের পরও একাডেমি জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি চাঁদ দেখার জন্য কিছুটা ‘জটিল’ হতে পারে।
এমনকি টেলিস্কোপ দিয়েও স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা বেশ কঠিন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত প্রযুক্তির (অ্যাডভান্সড ইমেজ স্ট্যাকিং) মাধ্যমে হয়তো চাঁদের ছবি ধরা যেতে পারে, তবে খালি চোখে আমিরাতের আকাশ থেকে এটি দেখা সম্ভব হবে না। তবে ভৌগোলিক কারণে পশ্চিমের কিছু আরব ও ইসলামি দেশে চাঁদ দেখার পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে থাকতে পারে।
সার্বিক পর্যবেক্ষণে একাডেমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অধিকাংশ মুসলিম দেশে শুক্রবার (২০ মার্চ) শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে যেসব দেশ প্রযুক্তিগত সহায়তার চেয়ে খালি চোখে বা সাধারণ টেলিস্কোপে চাঁদ দেখার ওপর বেশি নির্ভর করে, সেখানে স্থানীয় পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে শনিবার (২১ মার্চ) ঈদ হতে পারে।