যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে ‘লুজার’ বা পরাজিত ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি বন্ধুদের সঙ্গে এক ব্যক্তিগত নৈশভোজে আলাপকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর চরম বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে আয়োজিত এক ডিনারে স্টারমার সম্পর্কে এমন অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন ট্রাম্প।তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, স্টারমারকে লুজার বলতে শুরু করেছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেছে।
গত জুলাই মাসেও স্টারমারের পরিবার ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। এমনকি তাকে একজন ‘উইনার’ বা বিজয়ী হিসেবেও বর্ণনা করেন।তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে একটি ‘ইরান যুদ্ধ ও সামরিক সহায়তা’। ইরান ইস্যুতে স্টারমার পূর্ণ সমর্থন না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি সরাসরি বলেন, স্টারমার ‘উইনস্টন চার্চিল’ নন এবং তিনি ‘সম্পর্ক নষ্ট করছেন’।
আরেকটি কারণ হলো ‘দিয়েগো গার্সিয়া বিতর্ক’। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের হামলা চালানোর অনুমতি দিতে দেরি করেন স্টারমার। আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে প্রথমে বাধা দিলেও পরে তিনি নমনীয় হন। কিন্তু এই দেরি হওয়াটা ভালোভাবে নেননি ট্রাম্প।
অপর কারণটি হলো ‘অভ্যন্তরীণ নীতি’।হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিবাসন এবং জ্বালানি নীতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তরাজ্যে ‘শরিয়া আদালত’ বন্ধ এবং উত্তর সাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
এই বিরোধের জেরে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেনের বিতর্কিত চুক্তিতে নিজের সমর্থন তুলে নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মরিশাসের কাছে মালিকানা হস্তান্তর করে দিয়েগো গার্সিয়া লিজ নেওয়ার যে পরিকল্পনা ব্রিটেন করেছিল, ট্রাম্প একে ‘ভীষণ ওক’ বা অতি-প্রগতিশীল পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডাউনিং স্ট্রিট এবং হোয়াইট হাউসের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের বিশেষ সম্পর্ক এখন নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের লুজার তকমা সেই তিক্ততারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।