ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি এবং তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘পুরোদমে প্রস্তুত’, এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
পেন্টাগনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরু হওয়ার পর এখন তেহরানকে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি হতে হবে, নইলে তাদের অবশিষ্ট অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হেগসেথ বলেন, ‘আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তি নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছি, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো গোয়েন্দা তথ্য আমাদের হাতে আছে।’
ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তারা এখনো তাদের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার বের করার চেষ্টা করছে, কিন্তু সেগুলো পুনর্গঠন করার সক্ষমতা তাদের নেই।
হেগসেথ বলেন, ইরানের সামনে দুটি পথ খোলা—একটি হলো চুক্তির মাধ্যমে সমাধান, আর অন্যটি কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়া।
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা বিভাগ নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না, কখনোই না।’
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন নিশ্চিত করেছেন, ইরানের সব বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কার্যকর রয়েছে।
তিনি জানান, এই অবরোধ কার্যকর করতে ১০ হাজারের বেশি নাবিক, মেরিন ও বিমানসেনা মোতায়েন রয়েছে।মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দিচ্ছে—‘অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করবেন না’ এবং ‘ফিরে যান, না হলে তল্লাশির জন্য প্রস্তুত থাকুন’।
তার মতে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর এ ধরনের বার্তা অন্তত ১৩ বার পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানো হয়নি।
একই বক্তব্যে হেগসেথ মার্কিন সংবাদমাধ্যমেরও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বাইবেলের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রাচীন ইসরায়েলের ধর্মীয় গোষ্ঠী ফারিসিদের মতোই সংবাদমাধ্যমও সবকিছু নেতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “কখনো কখনো বোঝা কঠিন হয়ে যায়, আপনাদের মধ্যে কেউ আসলে কোন পক্ষের হয়ে আছেন।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান