সিলেট-১: লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে আমরণ অনশনে যাবেন সুমন

সিলেট-১: লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে আমরণ অনশনে যাবেন সুমন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার–প্রচারণায় সমান সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে তিনি আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হবেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

সুমন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। প্রচার–প্রচারণায় সমান সুযোগ–সুবিধা ও সুষ্ঠু পরিবেশ, অর্থাৎ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, নিশ্চিত করা হয়নি।দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সিলেটের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষসহ আপামর জনসাধারণ কাস্তে মার্কার পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী বিলবোর্ডের কোনো সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। অথচ সিলেটের রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের অবগতকরণ বা নোটিশ ছাড়াই বিধিসম্মতভাবে লাগানো ২০টি রঙিন বিলবোর্ড বুধবার বিকেলে খুলে নেয়। তাৎক্ষণিকভাবে টিলাগড় পয়েন্টে তাঁর বিলবোর্ডের স্ট্রাকচারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর একটি বিলবোর্ড লাগানো হয়।

তিনি আচরণবিধির ১৪ নম্বর দফা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে বলা হয়েছে প্রচারণার ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে, তবে আয়তন অনধিক ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট হতে হবে। এক্ষেত্রে বিলবোর্ডের স্ট্রাকচার, পচনশীল বা অপচনশীল উপাদান কিংবা রঙ ব্যবহারের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।

এছাড়া আচরণবিধির ৭(খ) উপদফায় অপচনশীল দ্রব্য দিয়ে তৈরি প্রচারপত্র, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে তিনি দাবি করেন। একইভাবে ৭(ঙ) দফায় ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুন সাদা–কালো রঙের হওয়ার কথা বলা হলেও বিলবোর্ডে রঙ ব্যবহারের বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ উল্লেখ করা হয়নি।

সুমন বলেন, গত ২২ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি নিশ্চিত হন যে, বিলবোর্ডে রঙ ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এরপর সিলেট–১ নির্বাচনী এলাকায় ২০টি রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। কিন্তু পরে কোনো নোটিশ ছাড়াই সেগুলো খুলে নেওয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গেলে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়। পরে কোনো সাক্ষাৎ না করেই রিটার্নিং অফিসার দপ্তর ত্যাগ করেন।

সুমনের ভাষ্য, আইন ও বিধি মেনে লাগানো বিলবোর্ডগুলো খুলে নেওয়ার ফলে তার নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগ ও সুষ্ঠু পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি করে বিলবোর্ড লাগানোর বিধান থাকলেও অন্তত দুইজন প্রার্থী প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি করে বাঁশের স্ট্রাকচারে তৈরি শত শত বিলবোর্ড লাগিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন।

নগরে প্রায় ১৯ হাজার সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে অধিকাংশ অটোরিকশার পেছনে দুইজন প্রার্থীর রঙিন পোস্টার লাগানো হয়েছে, যা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। এছাড়া শহরের বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার ফেস্টুন লাগানো রয়েছে।

একটি রাজনৈতিক দলের জনসভা শেষ হওয়ার পরও প্রার্থী ও দলের নাম–সংবলিত দুই থেকে তিন হাজার অপচনশীল দ্রব্যের তৈরি রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড এখনো টানানো রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে ওই প্রার্থী ও দল প্রচারণায় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে তার দাবি।

তিনি বলেন, এসব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করছেন। অথচ যেসব প্রার্থী প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা ন্যায়সংগত নয়।

সুমন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করা হলে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এবং নির্বাচনকে পক্ষপাতদুষ্ট করার প্রতিবাদে তিনি আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হবেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে ইতোমধ্যে নিজেদের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS