বিমানের এমডির বাসায় শিশু নির্যাতন: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

বিমানের এমডির বাসায় শিশু নির্যাতন: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বরখাস্ত) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছর বয়সী এক মেয়ে গৃহকর্মীর ওপর অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর জোট ‘চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ’।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

কোয়ালিশনটি জানায়, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার বাসায় এমন নৃশংসতা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি শিশু অধিকার ও মানবাধিকারের চরম অবমাননা। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনা সমাজের প্রভাবশালী ও তথাকথিত শিক্ষিত মহলের নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।

কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছরের জুন মাসে দরিদ্র ও অসহায় এক পিতা উন্নত জীবন, পড়াশোনা এবং নিজ সন্তানের মতো লালন-পালনের মৌখিক আশ্বাসে তার কন্যাশিশুকে ওই কর্মকর্তার বাসায় দেন। কিন্তু গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে শিশুটিকে পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি দুপুরে শিশুটি ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েছে জানিয়ে পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।এ সময় বাবা সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে দীর্ঘ সময় বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হলে দেখা যায়, তার শরীরজুড়ে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।

চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ মনে করে, নিজের মেয়ের মতো রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি শিশুকে গৃহকর্মীর নামে দাসের মতো ব্যবহার করা এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা শুধু প্রচলিত আইন লঙ্ঘন নয়, বরং এটি মানবাধিকারের চরম অবমাননা। রাষ্ট্র যখন শিশুশ্রম ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সংগঠনটি অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তার প্রশাসনিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। 

কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকবে এবং তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS