নির্বাচনী আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং এসব ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মন্তব্য করেছে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স (ইডব্লিউএ)।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরে সংস্থাটি।
সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউএ’র প্রেসিডেন্ট ড. মো. শরিফুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিকরা অবাধ ও ভয়মুক্তভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত। গত দুই দশকে কোনো জাতীয় নির্বাচনেই ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
ইডব্লিউএ অভিযোগ করে জানায়, দেশজুড়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, কালো টাকার ব্যবহার এবং সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
শেরপুরে উপজেলা জামায়াতের এক নেতার মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. শরিফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৪৪টি জেলার প্রায় ৪০টি সংসদীয় আসনে এখন পর্যন্ত ১০৫টিরও বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২২টি সহিংসতা ও হামলার ঘটনা রয়েছে, যেখানে প্রচারণায় বাধা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ২৭টি ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত বড় আকারের রঙিন বিলবোর্ড ও ব্যানার ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। ১৬টি ঘটনায় কার্ড বা খাবার বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ৮টি ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশুদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়েছে।
নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. শরিফুল আলম বলেন, ‘নারী কর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের কাছ থেকে শারীরিক হেনস্তা ও বাধার মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নীরবতাকে তিনি ‘রহস্যজনক ও হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
পর্যবেক্ষকদের অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে জটিল উল্লেখ করে ইডব্লিউএ জানায়, এতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সংস্থাটি।
ড. শরিফুল আলম বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মকর্তা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শন করছেন, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।’
প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ও বডি ক্যামেরা ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে রহস্যজনক অনীহা দেখাচ্ছে।
ইডব্লিউএ’র মতে, ৪৪টিরও বেশি জেলায় এবং প্রায় ৪০টি সংসদীয় আসনে শতাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নির্বাচনী আইন প্রয়োগে সমন্বিত ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।