রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অপহৃত তিন বছর বয়সী শিশু হিসানকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় মূল অপহরণকারী অটোরিকশাচালক মো. চাঁন মিয়াসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের মুখপাত্র (উইং কমান্ডার) এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
র্যাব জানায়, ২৮ জানুয়ারি দুপুর ১১টার দিকে সুমাইয়া আক্তার তার তিন বছর বয়সী ছেলে হিসান রহমানকে নিয়ে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান।
চিকিৎসা শেষে মৌচাক মার্কেটের উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশায় ওঠেন তিনি। পথিমধ্যে শিশু হিসান পানি খেতে চাইলে তাকে রিকশায় রেখে পানি আনতে যান সুমাইয়া। এ সময় রিকশাচালক শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর শিশুটির সন্ধান না পেয়ে পরদিন (২৯ জানুয়ারি) সুমাইয়া আক্তার মুগদা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।ঘটনার পরপরই র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
সংবাদ সম্মেলনে এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৩, র্যাব-১৩ এবং র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে রমনা থানাধীন ওয়্যারলেস গেট, গ্র্যান্ড প্লাজা এলাকা থেকে অপহরণকারী মো. চাঁন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার বাবা মো. নূর মোহাম্মদ, মা চাঁন মালা এবং মোসাম্মদ কুলসুম বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত চাঁন মিয়া স্বীকার করেন, অপহরণের পর তিনি শিশুটিকে তার নিকটাত্মীয় আজাদ নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন।
উদ্দেশ্য ছিল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তার নিজ বাড়িতে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করে এবং র্যাব-১৩ দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তার নামে গাইবান্ধা থানায় একটি হত্যা মামলা এবং মুগদা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।