মুছাব্বিরকে গুলি করে পালানো সেই রহিম ডিবির কব্জায়, অস্ত্র জব্দ

মুছাব্বিরকে গুলি করে পালানো সেই রহিম ডিবির কব্জায়, অস্ত্র জব্দ

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজে যে দুজনকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়, তাদের একজন আব্দুর রহিম।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার পর যারা পালিয়ে যায়, তাদের মধ্যে আব্দুর রহিম একজন।

এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে।

ডিবি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর নরসিংদী থেকে শুটার আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম মুছাব্বির হত্যায় চারজন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সে সময় প্রাথমিক তদন্তের বরাতে ডিবি জানায়, ঢাকা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির চাঁদাবাজদের প্রতিরোধে মানববন্ধন করেছিলেন। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও বিভিন্ন সামাজিক কাজে সুনাম অর্জন করায় তাকে লক্ষ্য করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

নিহত মুছাব্বির তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় ছিলেন।

তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। তার পৈতৃক বাড়ি পশ্চিম কারওয়ান বাজার এলাকায়। তার বাবার নাম খলিলুর রহমান।

হত্যাকাণ্ডের দিন রাতে নিহতের ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান আজমাইন জানান, তার বড় ভাই পানি সরবরাহ ও পিকআপ ভ্যানের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি পৈতৃক বাড়ি থেকে ভাড়াও পেতেন।তবে স্ত্রী সুমি ও তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি পশ্চিম কারওয়ান বাজারে স্থায়ীভাবে থাকতেন না। তারা রাজধানীর অন্য একটি এলাকায়-সম্ভবত বনশ্রীতে থাকতেন এবং মাঝে মধ্যে পশ্চিম কারওয়ান বাজারের বাসায় যেতেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান আজমাইন জানান, তার ভাই কোনো ধরনের প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন কিনা, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। কারা বা কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা সম্পর্কেও তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

ঘটনার পরদিন নিহত মুছাব্বিরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। সেখানে নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। তবে সিসিটিভি ফুটেজ থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সুষ্ঠু তদন্ত না হলে তার মতো আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সহিংসতা থামানো না গেলে একের পর এক পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। এসব সহিংসতা না থামলে আজ মুছাব্বির, কাল আরেক পরিবারের স্বপ্ন লাশ হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে তেজগাঁও আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের পাশের একটি গলিতে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এ ঘটনায় তেজগাঁও থানা ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও আহত হন। স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আহত আবু সুফিয়ান মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS