ব্যস্ত কর্মজীবনের ক্লান্তি কাটাতে সাপ্তাহিক ছুটিতে নানির বাসা থেকে নিজেদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন শিশুসন্তান ফাইয়াজকে। কর্মজীবী বাবা–মায়ের কাছে এ সময়টুকু ছিল সন্তানের সঙ্গে কাটানোর। কিন্তু সেই আনন্দঘন ছুটিই রূপ নেয় হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন দম্পতি ও তাদের শিশু সন্তান ফাইয়াজ।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরে। আগুন ও ধোঁয়ার ভয়াল গ্রাসে বেরিয়ে আসার আর কোনো সুযোগ পাননি তারা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবা, মা ও তাদের আদরের শিশু সন্তান।
রাজধানীর উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ৬ জন মারা গেছে।নিহতরা হলেন, কাজী ফজলে রাব্বি (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) ও তাদের ছোট ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২)।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, একই পরিবারের তিনজনসহ ৬ জন মারা গেছেন।
ওসি আরও বলেন, শোনা যাচ্ছে অপর নিহত তিনজন একই পরিবারের, তাদের মধ্যে বাবা ছেলে ও তাদের এক আত্মীয় রয়েছে, তারা হলেন-হারিছ উদ্দিন (৫২) তার ছেলে রাহাব (১৭) ও হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।
নিহত আফরোজার মামাতো ভাই মো. আবু সাইদ জানান, ফজলে রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত। আর তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাদের দুই ছেলে ফাইয়াজ ও রাফসান।
তিনি জানান, স্বামী স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় তাদের দুই ছেলেই উত্তরাতেই নানির বাসায় থাকতো।আজ শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন হওয়ায় গতরাতেই ছোট ছেলেকে নানির বাসা থেকে মায়ের বাসায় নিয়ে আসে। এরপর আজ সকালে ওই বাসায় আগুনের সংবাদ পান স্বজনরা। পরবর্তীতে একে একে হাসপাতালে এসে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
আফরোজার বোন আফরিন জাহান জানান, আফরোজাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের বাকি দুজনের লাশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সবাই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তাদের শরীর দগ্ধ হয়নি। এদিকে, জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আফরোজাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে তার শরীরে কোনো পোড়া ক্ষত নেই। ধোয়ায় অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সার্ভিসের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, ঘরে প্রচুর আসবাবপত্র ছিল। সেগুলোয় আগুন লেগে যায়। আগুন তাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন–৩–এর উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল মান্নান বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। আগুন দ্বিতীয় তলায় লেগে তা তিনতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।
সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল ১০টার দিকে পুরোপুরি নিভেছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়। শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।