বিজয় রাকিন সিটি আবাসন প্রকল্পে অমুক্তিযোদ্ধা ও অবৈধ বরাদ্দ বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি। একইসঙ্গে প্রকল্পের সব বরাদ্দ ও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ন্যায্য ফ্ল্যাট বরাদ্দ, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।
তিনি বলেন, ‘বিজয় মুক্তিযোদ্ধা সিটি’ প্রকল্পের নামকরণ করেছিলেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে এই নাম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সম্প্রতি রাকিন সিটির গেটে সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে মনুমেন্ট উদ্বোধন করা হলেও সেখানে কোনো মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতি ছিল না।
ইশতিয়াক আজিজ উলফাত অভিযোগ করেন, ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নেওয়া এই প্রকল্পটি এখন সংঘবদ্ধ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণে পরিণত হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, সাবেক অতিরিক্ত আইজি ও সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যান এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি বেসরকারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবৈধ চুক্তি করেন।এর ফলে প্রকল্পের মোট ১ হাজার ৯৫০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে মাত্র ৮৭০টি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পে মোট ৮৭০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৭৬৬টি ফ্ল্যাট আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও আমলারা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। এতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ফ্ল্যাট বঞ্চিত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সমিতির মোট সদস্যের বড় একটি অংশই অমুক্তিযোদ্ধা।
বর্তমানে ৫১৬ জন সদস্যের মধ্যে ৩৩৪ জনই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। এদের মাধ্যমেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো করুণা চান না, তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান চান। মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিয়ে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।