News Headline :
বাবা-মেয়ের সিনেমা ‘কিং’, কাজের অগ্রগতি কতদূর? ছাগল–কাণ্ডে আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে অমিতাভ! এখন কেমন আছেন অভিনেতা? কেন সারা বছর সানগ্লাস ব্যবহার জরুরি কাবলি ছোলার উপকারিতা ফাইনালের হাফটাইম শোয়ে কত টাকা পেলেন শাকিরা, বিবার, ম্যাডোনারা – বিশ্বকাপ ফুটবল বাগদানের পর পাকিস্তানে, হবু বরের দেশে নিয়ে রহস্য বাড়ালেন নীহা! শৈশবের স্বপ্ন থেকে বিশ্বরেকর্ড, এবার ঘরের মাঠে স্বর্ণ চান জশ কের ‘যতদিন ইচ্ছে খেলবে মেসি’—আর্জেন্টাইন অধিনায়কের অবসর জল্পনা ওড়ালেন স্কালোনি ফিফার প্রতি অসন্তোষে বিশ্বকাপ ফাইনালই বয়কট করলেন উয়েফা সভাপতি
ঋণের উচ্চ সুদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ

ঋণের উচ্চ সুদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ

ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদের সীমা প্রত্যাহারের পর ঋণ ও আমানতের সুদের হারের ব্যবধান (স্প্রেড) দ্রুত বেড়েছে। ফলে আমানতের সুদহারের তুলনায় ঋণের সুদহার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, আর কিছু ক্ষেত্রে এটি ৮–১০% ছাড়িয়ে গেছে।

ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে ওঠায় বেসরকারি বিনিয়োগ কমছে। একই সঙ্গে আমদানি এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার প্রবণতাও কমেছে—যা বিনিয়োগের স্থবিরতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মন্থরতার ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ব্যাংকগুলোর গড় আমানত সুদহার ছিল ৬.৩৬%, আর গড় ঋণ সুদহার ছিল ১২.১৪%। ফলে গড় ব্যাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৫.৭৮%। তবে আটটি ব্যাংকের ব্যাপ্তি ৮%–১০% এর বেশি এবং আরও ১৪টি ব্যাংকের ৬%–৮% এর মধ্যে। বিপরীতে, ২০২৩ সালের নভেম্বর—যে মাসে ব্যাপ্তির সীমা তুলে নেওয়া হয়, সে সময় গড় ব্যাপ্তি ছিল মাত্র ৩.৩৫%।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুদের হার পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হলেও ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতার অভাব এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার কারণে এই বিস্তার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে উৎপাদনমুখী খাতে অর্থের প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “যখন আমানতের সুদহার কমছে কিন্তু ঋণের সুদহার অনুপাতে কমছে না, তখন বোঝা যায় বাজার পুরোপুরি কাজ করছে না। উচ্চ সুদহার বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বড় বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলো বর্তমানে ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক। শিল্প ও ব্যবসায় ঋণ দেওয়ার বদলে তারা ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে সহজ মুনাফা করছে। এতে বাস্তব অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ সংকুচিত হচ্ছে।

জাহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেন, খেলাপি ঋণ কমানো না গেলে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি পুষিয়ে নিতে ঋণের সুদহার বাড়াবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপ বাড়াবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজারভিত্তিক সুদের হার মানে তদারকির অভাব নয়।

নৈতিক চাপের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি দ্রুত সমাধান করতে হবে; নইলে শক্তিশালী ব্যাংকগুলো এই পরিস্থিতির সুযোগ নেবে।

তিনি যোগ করেন, এই সুদহারের ব্যাপ্তি যদি দীর্ঘ সময় ধরে ৬%–৭% এর ওপরে থাকে, তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন; এতে কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদন উভয়ই চাপের মুখে পড়বে।

সূত্র জানায়, ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকারদের এক বৈঠকে ক্রমবর্ধমান সুদ ব্যবধান নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক বলেন, ২০২৪ সালের নির্দেশনার আওতায় সুদের হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হলেও ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত সুদহারের ব্যাপ্তি বাড়িয়েছে, যা ঋণকে ব্যয়বহুল করে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান ৩% এর নিচে রাখে, সেখানে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই এটি প্রায় ৬% ঘোরাফেরা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন এবং বৈঠকে সুদহারের ব্যাপ্তি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নৈতিক চাপের মাধ্যমে সুদহার কমাতে বলা হবে, যদিও আপাতত কোনো নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হচ্ছে না।

সুদহার কেন বাড়ছে
ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনায় জানা যায়, কিছু ব্যাংকের দুর্বল অবস্থার কারণে একাংশ আমানতকারী তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর করছেন। ফলে ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলো কম সুদ দিয়েও বিপুল পরিমাণ আমানত পাচ্ছে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল থাকায় তারা একই হারে ঋণের সুদ কমাচ্ছে না।

এ ছাড়া ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে ব্যাংকগুলো ১০% এর বেশি ঝুঁকিমুক্ত মুনাফা পাচ্ছে। এতে শিল্প ও বাণিজ্যে ঋণ না দিয়েও ভালো আয় করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সুদহার বেড়েছে, ব্যাংকের মুনাফা বাড়লেও বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগ ও এলসিতে নেতিবাচক প্রভাব
উচ্চ ঋণ সুদহারের কারণে উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ কমেছে; অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় বাড়ায় এলসি খোলার হার কমেছে, যা উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছর ২৬–এর প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই–নভেম্বর) মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলা ৩২.২২% বেড়েছে, কিন্তু নিষ্পত্তি কমেছে ১৬.৭৭%; পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায়। একই সময়ে মধ্যবর্তী পণ্যের এলসি খোলা বেড়েছে ১.৯৫%, আর নিষ্পত্তি কমেছে ১৬.৪১%। কাঁচামালের ক্ষেত্রে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি সামান্য ০.৪৫% বেড়েছে।

ফলে টানা ছয় মাস ধরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৭%–এর নিচে রয়ে গেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর শেষে প্রবৃদ্ধি নেমে দাঁড়িয়েছে ৬.৫৮%, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার নিচে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)–এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, ব্যাংকগুলো আমানতের সুদ কমিয়েছে, কিন্তু ঋণের সুদ সেই অনুপাতে কমায়নি; ফলে সুদহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। উৎপাদনে বিনিয়োগের জন্য ১৪%–১৬% সুদে ঋণ নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, প্রতিযোগিতা কমে এবং দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এপ্রিল ২০২০ থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের সুদহারে ৯% সীমা কার্যকর ছিল। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ‘সিক্স-মান্থ মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল (স্মার্ট)’ সুদহার ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং ওই বছরের নভেম্বরেই সুদহার ব্যাপ্তির ৪% সীমা তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৮ মে ২০২৪–এ সুদের হার পুরোপুরি উদারীকরণ করা হয়। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ক্রলিং পেগ চালু করে এক ধাপে ডলারের দর ৭ টাকা বাড়ানো হয়।

সৌজন্যে: ডেইলি সান

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS