ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নস (ডব্লিউএফটিইউ) বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।
ডব্লিউএফটিইউ বাংলাদেশ কমিটির সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে এবং সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের চেয়ারম্যান নোমানুজ্জামান আল আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন- জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বাদল খান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহাবুব মজনু, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি জাকারিয়া হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ এবং দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনের লক্ষ্যে গৃহীত আগ্রাসী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান।
নেতারা বলেন, বিশ্বের একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ তেলের মজুদ, প্রায় ১০ হাজার টন মজুদের স্বর্ণের খনি, ব্যাংকের ভল্টে জমা ১১৯ টন সোনা এবং ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিশেষ খনিজ সম্পদের লোভে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মার্কিনিরা মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করেছে। তবে ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে মাদুরোকে তুলে নিয়ে গেলেও মার্কিনিরা এখনো নির্বিঘ্নে দেশটির সম্পদ লুট করতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার জনগণ ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন দস্যু ও বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।
ডব্লিউএফটিইউ বাংলাদেশ কমিটির নেতারা জোর দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে গৃহীত এসব পদক্ষেপ শুধু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন নয়, বরং দেশটির নাগরিকদের সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধিকারকেও ক্ষুণ্ন করছে।
তারা আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা সাম্রাজ্যবাদী শোষক দেশগুলোর সম্পদলোলুপতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। প্রতিটি সার্বভৌম দেশের নিজস্ব সম্পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে-এই নীতির পক্ষেই আমরা দাঁড়িয়ে আছি। এ কারণেই আমরা আমাদের বন্দর রক্ষার লড়াই করছি। যারা বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে, তাদের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া আজ অপরিহার্য।
সমাবেশ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে সব জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান করা, বিশ্বজুড়ে স্থায়ী শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সব ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমজীবী সংগঠনের মধ্যে দৃঢ় সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।