বাসযোগ্য ঢাকা শহর গড়ে তুলতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তনের কথা বলেছেন কমিউনিস্ট পার্টির(সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন৷
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের মৌলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ঢাকা মহানগর উত্তরের আয়োজনে ‘সবার জন্য মানবিক, মর্যাদাপূর্ণ বাসযোগ্য ঢাকা চাই’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ প্রস্তাব করেন৷
আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করি ৩০০ আসনের নির্বাচিতদের মধ্যে থেকে একজনকে। ওইটা হলো ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি।ঢাকা সিটিতে ১৫ থেকে ১৬ টা আসন আছে। বিশাল একটা জায়গা।ঢাকা উত্তরে আমি নির্বাচন করেছিলাম। অনেক জায়গা আছে যেখানে আমি যাইতে পারি নাই।বড় দলগুলি ছাড়া সাধারণ ভালো মানুষের নির্বাচনে আসার কোনো সুযোগ নাই।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, দিল্লিতে যেভাবে আছে, কলকাতায় যেভাবে আছে, ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি৷ ঢাকা উত্তরে ১১৫টা, ঢাকা দক্ষিণে ১১৫টা ওয়ার্ড আছে।১১৫ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হবে। তাদের মধ্য থেকে মেয়র নির্বাচিত হবে এবং সেটা ছিল!
তিনি আরও বলেন, ৭৯-এর আগে হাসনাত সাহেব যে মেয়র ছিলেন, তিনি এই ওয়ার্ড কমিশনার হয়েই মেয়র হয়েছিলেন। তখন ঢাকাতে তিনটা সিটি তিনটা পৌরসভা ছিল। ঢাকা পৌরসভা, গুলশান পৌরসভা, মিরপুর পৌরসভা। হাসনাত সাহেব এই পৌরসভায় ঢাকা থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি মেয়র হয়েছিলেন। ওই পদ্ধতিতে আমাদের ফিরে যেতে হবে। ওই পদ্ধতিতে ওয়েস্টমিনস্টার স্টাইলেই যাইতে হবে। তাতে এই যে নির্বাচনের খরচও কমে যাবে এবং ভালো মানুষ ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে। ফলে সবার জন্য মানবিক, মর্যাদাপূর্ণ বাসযোগ্য ঢাকা করে তোলা সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন৷
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৯৯৪ সালে আমাদের পার্টির নেতা মঞ্জুরুল আহসান খান একত্রিত যে সিটি কর্পোরেশন ছিল, সেই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচন করেছিলেন। সেখানে আমরা বলছিলাম ‘বাসযোগ্য ঢাকা চাই’। ‘বাসযোগ্য ঢাকা’। তারপরে যখন এইটা নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি, ২০১৫ সালে আমরা যখন আবার মেয়র নির্বাচন করি তখন আমরা বলছিলাম ‘বাসযোগ্য ও মানবিক ঢাকা চাই’। আমরা যুক্ত করলাম ‘মানবিক ঢাকা’। আজকে এখানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের… ‘বাসযোগ্য, মানবিক ঢাকার সাথে নিরাপদ ঢাকাও যুক্ত করছেন’। তার মানে কী? আমাদের ঢাকা ক্রমান্বয়ে আমরা মানে প্রথমে শুধু বাসযোগ্য আমরা দাবি করেছিলাম। তারপর আমরা দেখলাম যে, একটা মানবিক না হলে তো হয় না। কারণ এখানে শহরের অধিকাংশ মানুষই হচ্ছে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ। তারা প্রান্তিক জন, তাদের থাকার জায়গা নাই। ঢাকা শহরে তো ৪০ লক্ষ লোক রাস্তায় ঘুমায়। সুতরাং এই যে মানবিকতার যে বিষয়টা আসছে, সেটা আমরা যুক্ত করেছি।
সেমিনারের আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, চরচা সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ কমোডর বিমল কুমার সাহা, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফৌজিয়া ফারজানা, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর প্রমুখ৷