ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কানাডা পর্বে উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশকে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরে আলোচনায় আসেন সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি।তবে এই সাফল্য সহসাই আসেনি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, আর্থিক সংকট ও অদম্য অধ্যবসায়ের গল্প।
এক সাক্ষাৎকারে কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরে সঞ্জয় জানান, সংগীতজীবনের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। মিউজিক প্রোডাকশন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় শুরুতে তার তৈরি গান বা সুর খুব একটা ভালো হতো না।বন্ধুরা বিরক্ত হতেন, এমনকি পরিবারের সদস্যরাও সমালোচনা করতেন। তবে একই সঙ্গে তারা তাকে উৎসাহও দিয়েছেন।
সঞ্জয়ের কথায়, ‘মিউজিক ছাড়া অন্য কোনো কিছুই আমাকে টানত না। অনেক কঠিন সময় গেছে, কিন্তু কখনো মনে হয়নি এই পথ ছেড়ে দেব। আমার বিশ্বাস ছিল, সংগীতই এমন একটি ভাষা, যার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা যায়।’
নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সিলিকন ভ্যালি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার পর এমন সময়ও এসেছে, যখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না।
তার ভাষায়, ‘মা-বাবাও জানতেন না আমি কী পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম। যে অ্যাপার্টমেন্টে পাঁচ বছর ছিলাম, সেখানে মেঝেতেই ঘুমাতাম। কয়েক শ ডলার বাঁচিয়ে সেই টাকা দিয়ে সংগীত তৈরির চেষ্টা করতাম। তখন নিজের বানানো মিউজিক বিট ১০০ থেকে ১৫০ ডলারে বিক্রি করে টিকে থেকেছি।’
সঞ্জয় আরও বলেন, এখন পেছনে ফিরে তাকালে সেই সংগ্রামের দিনগুলোই তাকে সবচেয়ে বেশি শক্তি দেয়। তখন যেমন সংগীতকে ভালোবাসতেন, এখনও ঠিক ততটাই ভালোবাসেন।
বলে রাখা যায়, বিশ্বকাপে বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহির সঙ্গে ‘সির সির’ গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান সঞ্জয় দেব। কযকেদিনের ব্যবধানে তাদের ‘চ্যাম্পিয়ন’ শিরোনামের আরেকটি গান প্রকাশিত হয়। গান দুটির কথা, সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন সঞ্জয় নিজেই।