News Headline :
পাকিস্তানে সেনা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ১৩ আবাহনীর স্বপ্ন ভেঙে ষষ্ঠ লিগ শিরোপা বসুন্ধরা কিংসের বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিখাত হবে চামড়া শিল্প: বাণিজ্যমন্ত্রী জোট নয়, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াইয়ে নামবে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের দুশ্চিন্তা, সিলেটে আগ্রাসী বাংলাদেশ ট্রাম্পের পর এবার চীন সফরে যাচ্ছেন পুতিন রাতের মধ্যে রাজধানীতে বজ্রবৃষ্টির আভাস সড়কে মিলছে এআই ক্যামেরার সুফল: ফিরছে শৃঙ্খলা তারেক রহমানের ছায়ায় বাংলাদেশ নিরাপদ: তথ্য প্রতিমন্ত্রী স্ত্রী-তিন মেয়েসহ ৫ খুন: পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ ঘাতক ফোরকানের
উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের দুশ্চিন্তা, সিলেটে আগ্রাসী বাংলাদেশ

উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের দুশ্চিন্তা, সিলেটে আগ্রাসী বাংলাদেশ

সিলেটের আকাশে থেমে থেমে বৃষ্টি, উইকেটে সবুজের ছাপ। এমন অনিশ্চিত কন্ডিশনের ভেতরেই বাংলাদেশ যেন খুঁজছে নতুন এক ব্যাটিং পরিচয়।সেই পরিচয়ের কেন্দ্রে তানজিদ হাসান তামিম। ‘বাজবল’ ধাঁচের আগ্রাসী ক্রিকেট দর্শনের ভাবনা থেকে তাকে টেস্ট দলে আনা হয়েছিল।বার্তা পরিষ্কার, শুরুটা হতে হবে আক্রমণ দিয়ে। দ্রুত রান, প্রতিপক্ষের পেসারদের ওপর চড়াও এই চিন্তাই এখন বাংলাদেশের টেস্ট পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।আর সেই ভাবনার বাস্তব রূপ হয়ে শনিবার (১৬ মে) টেস্ট অভিষেকের হতে যাচ্ছে তানজিদের! 

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটের পাশে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের ১১ জন ক্রিকেটার। কারও চোখ উইকেটে, কেউ আবার ধীরে ধীরে হাঁটছেন ঘাসের ওপর।সবাই যেন অচেনা কন্ডিশনকে বোঝার চেষ্টায় ব্যস্ত। সিলেট স্টেডিয়ামে এর আগে কখনো খেলেনি পাকিস্তান। প্রথমবার এই ভেন্যুতে মাঠে নামার আগে উইকেট নিয়ে তাদের বেশ দুশ্চিন্তা। শনিবার বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর এই ভেন্যুতেই শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের শেষটি।

এই ম্যাচ ঘিরে শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে উইকেট ও আবহাওয়া। সিলেটের সবুজ উইকেটের সঙ্গে বৃষ্টির শঙ্কা মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত দুই দিন ধরেই বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হয়েছে দুই দলের প্রস্তুতি। পাশাপাশি উইকেট প্রস্তুতিতেও ব্যাঘাত ঘটেছে।

শুক্রবার (১৫ মে) বাংলাদেশের অনুশীলনে একাধিক দফায় বৃষ্টি হস্তক্ষেপ করে। নেটে শুরুতেই ব্যাটিংয়ে নামেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, মুশফিকুর রহিম, জাকির হাসান ও মুমিনুল হক। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ড-টুর সেন্ট্রাল উইকেটের এক নেটে ব্যাটিং করেন মুমিনুল ও তানজিদ। অন্য পাশের নেটে ব্যাটিং করেন মুশফিক ও জাকির। চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে যাওয়া সাদমান ইসলামের জায়গায় নেওয়া হয়েছে জাকির হাসানকে। যদিও তার একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। নেট সেশনে তাকে কিছুটা অস্বস্তিকর দেখা গেছে। মূলত স্পিনারদের বিপক্ষে সীমিত অনুশীলনেই ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে তানজিদ হাসান তামিম ছিলেন তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছন্দ। নতুন বলের বিপক্ষে তার ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট ছিল। অনেকটাই নিশ্চিত, সাদমানের জায়গায় অভিষেক হচ্ছে তানজিদের। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও তার পারফরম্যান্স দারন। মূলত আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার কারনেই তাকে স্কোয়াডে নেওয়া।  তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে মাহমুদুল হাসান জয়কে। যদিও শুক্রবার তিনি ব্যাটিং করেননি, বরং ফিল্ডিং অনুশীলনেই বেশি সময় দিয়েছেন। ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে স্লিপ ক্যাচ ও লং ক্যাচ নিয়ে কাজ করেন তিনি। ঢাকা টেস্টে ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুলে চোট পান জয়। এ কারণে তাকে নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শুক্রবার ফিল্ডিং অনুশীলনে বেশ সাবলীলই মনে হয়েছে জয়কে।

বাংলাদেশের পেস ইউনিট নিয়েও আছে কৌশলগত ভাবনা। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে গত দুই দিনের অনুশীলনে ঢাকা টেস্টের একাদশের কেউই বোলিং করেননি। ঢাকা টেস্টের একাদশের বাইরে থাকা শরিফুল ইসলাম আগের দিন টানা বোলিং করেছেন। শুক্রবার কেবল ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন। আগের দিন তাসকিন ও রানাকেও ব্যাটিং অনুশীলন করতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে একাদশে পেস আক্রমণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এবাদত হোসেনের বদলে স্কোয়াডে দেখা যেতে পারে শরিফুল ইসলামকে। সিলেটের সবুজ উইকেটে তাসকিন ও নাহিদের সঙ্গে কার্যকর ভূমিকায় দেখা যেতে পারে শরিফুলকে।

সিলেট টেস্টের একাদশে বদল নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘আমার মনে হয়, দেখেন ইনজুরি তো আসলে বলে আসে না। আমার মনে হয়, এটা টিম ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়কই সিদ্ধান্ত নেবেন। আর ইনজুরির ব্যাপারে আসলে কিছু করার থাকে না। তবে কয়েকদিন আগেও তো আপনারা দুই ওপেনারের কাউকেই চাইছিলেন না, কারণ তারা দুই ইনিংসে রান করতে পারেনি। কিন্তু আমি মনে করি, তারা (সাদমান ও মাহমুদুল হাসান জয়) খুবই সামর্থ্যবান। সাদমান ছিটকে গেছে, আশা করি জয় সুযোগ পেলে ভালো করবে।’

শুক্রবার স্কিল অনুশীলন ঠিকভাবে করতে পারেনি পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে ফিল্ডিং অনুশীলন সেশন করতে পারেনি তারা। কেবল ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের। তবে অনুশীলনের চেয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আগ্রহ ছিল উইকেট পর্যবেক্ষণে। প্রত্যেকেই যেন পাখির চোখে ঘাস ও আর্দ্রতা বোঝার চেষ্টা করেছেন।

এমনিতেই সিলেটের উইকেট সাধারণত পেসারদের জন্য সহায়ক। তার ওপর বৃষ্টির কারণে ম্যাচের গতি ও পিচের আচরণ বদলে যেতে পারে। সকালের আর্দ্রতা ও মেঘলা আবহাওয়ায় এখানে সুইং বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। এবারও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় উইকেটে আর্দ্রতা থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে প্রথম দুই দিনে ব্যাটারদের জন্য পরীক্ষা কঠিন হতে পারে। এমনিতেও সকালের দিকে নতুন বলে পেসাররা সুইং ও সিম মুভমেন্ট পেয়ে থাকেন। সে কারণে টস জিতে আগে বোলিং করাটাই উত্তম হতে পারে। তবে ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেট ধীর হয়ে স্পিনারদেরও সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে শেষের দিকেও সিলেটের উইকেটে বোলারদের জন্য যথেষ্ট সহায়তা থাকবে।

উইকেট কিংবা আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, দুই শিবিরেই এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তা নেই। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আসা মুশফিকুর রহিমের মতে, সিলেটের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক হলেও আসল চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে আবহাওয়া, ‘ভিন্ন উইকেট ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ দেয়। মিরপুর থেকে এখানে এলে উইকেট অনুযায়ী ব্যাটিংয়ে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়। তবে আমার কাছে মনে হয়, এখন উইকেটের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আবহাওয়া।’

অন্যদিকে পাকিস্তানের কোচ সরফরাজ আহমেদ বলেন, ‘অবশ্যই আমরা হতাশ। কিন্তু যা হয়ে গেছে, সেটা অতীত। এখন আমাদের পুরো ফোকাস পরের ম্যাচে। ইনশাআল্লাহ আমরা দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়াব। আর আবহাওয়া আমাদের হাতে নেই। ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলে চেষ্টা করতে হবে মোমেন্টাম নিজেদের করে নেওয়ার।’

পাকিস্তানের জন্য বড় প্রেরণা হতে পারে বাবর আজমের ফেরা। চোটের কারণে ঢাকা টেস্টে দলে ছিলেন না তিনি। যদিও তার বদলে খেলা আব্দুল্লাহ ফজল ভালো ক্রিকেট খেলেছেন। তবে ওপেনিংয়ে পরিবর্তন এনে বাবরকে একাদশে জায়গা দেওয়া হতে পারে। বাবর ফিরলে নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ আরও শক্তিশালী হবে। সরফরাজও বাবরের ফেরায় দারুণ উচ্ছ্বসিত, ‘পিএসএলে যেভাবে খেলেছে, তাতে তাকে টেকনিক্যালি অনেক শক্ত মনে হয়েছে। মানসিকভাবেও ফ্রেশ লাগছে। তাই তাকে দলে পাওয়া আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক।’

যদিও বাবরের ফেরায় খুব একটা পার্থক্য দেখছেন না মুশফিক। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক যেন গোনাতেই ধরছেন না পাকিস্তানকে, ‘বৃষ্টির কারণে যতটুকু খেলাই হোক, যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং ফল নিজেদের পক্ষে আনতে পারি, তাহলে সেটা অবশ্যই বড় একটি অর্জন হবে। আমি মনে করি, আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছি। আর আপনি যেটা বললেন, যেকোনো দলে একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার থাকলে সেটা অবশ্যই বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও বিষয়টা স্বাভাবিক। তবে আমরা যখন পাকিস্তানে গিয়ে দুটি ম্যাচ জিতেছিলাম, তখনও সে (বাবর আজম) দলে ছিল এবং দুই টেস্টই খেলেছিল। তারপরও তারা আমাদের কাছে হেরেছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS