পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথা বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। গত সোমবার (১১ মে) সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেবে তার সরকার।
এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। এই সিদ্ধান্ত আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি।’
মঙ্গলবার (১২ মে) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন জয়সওয়াল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত ‘ইতিবাচক দিকে’ এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আমরা ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিচ্ছি।’
বাংলাদেশকে জ্বালানি সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যেও নয়াদিল্লি ঢাকার অতিরিক্ত জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সম্প্রতি দিল্লি সফর করেন। বিপরীতে ঢাকা সফর করেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এই দুই সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জয়সওয়াল বলেন, ‘এটাই বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের গতিপথ।’
চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ভারত সহায়তা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা হাই-স্পিড ডিজেল ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করে আসছি। বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত চাহিদাও আমরা পেয়েছি এবং সেগুলো পূরণও করেছি ও এখনো করে যাচ্ছি।’
তিনি আরও জানান, ভারত বিদ্যমান ব্যবস্থার আওতায় ভুটান ও নেপালেও জ্বালানি পণ্য সরবরাহ করছে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কাকেও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মরিশাসের সঙ্গেও কিছু ব্যবস্থা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।’
জয়সওয়াল আরেও বলেন, ‘নেপাল থেকে সার সরবরাহের একটি অনুরোধ ভারত পেয়েছে, যা বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে।’
সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ঢাকা অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে বলে মন্তব্য করেন। তার এ মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ভারত। এসব ব্যক্তির নাম নয়াদিল্লি ইতোমধ্যেই ঢাকার কাছে পাঠিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত আঞ্চলিক সব ধরনের পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখে।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য কোনো কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল নয়।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির চর্চাকারী হিসেবে আমরা আমাদের চারপাশের সব উন্নয়ন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করি। তবে আমি বলতে চাই, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিজস্ব ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।’