দেশে বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ করা অর্থ-সম্পত্তি অব্যবস্থাপনা ও দখলের কারণে বেহাত হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের সপ্তম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এতথ্য জানান।
ধর্ম সচিব বলেন, অনেক সম্পদশালী মুসলিম ব্যক্তি জীবদ্দশায় বা সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশে তাদের সম্পত্তি ওয়াকফ করে যান। এই ওয়াকফ মূলত দুই ধরনের-ওয়াকফ আউলাদ ও ওয়াকফ লিল্লাহ।তবে বাস্তবে এসব সম্পত্তির বড় অংশই সঠিকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে না এবং বেহাত হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে লাখ লাখ একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যা বর্তমানে মারাত্মক দুরবস্থার মধ্যে আছে।জেলা প্রশাসকরা বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং আইন প্রয়োগ করে এসব সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। তবে ব্যস্ততা ও সঠিক ধারণার অভাবে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তির একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোথায় কত সম্পত্তি রয়েছে, তার তথ্য সংগ্রহ শেষে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে। একইসঙ্গে দেবোত্তর ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্পত্তিও একই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তালিকা তৈরি করে কিছু ব্যক্তি নিজেদের মালিক দাবি করে দখল ছাড়তে চান না। আবার অনেক বিষয় দেওয়ানি আদালতে চলে যায়। এসব সমস্যা সমাধানে আইন সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে এবং সরকার সে বিষয়ে উদ্যোগ নেবে।
ধর্ম সচিব বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে দেশে ৭৭ হাজারের বেশি মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে সকাল বেলার সময়সূচি সরকারি স্কুলের সময়ের সঙ্গে কাছাকাছি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভাতা চালু করেছে। পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে এবং আগামী অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
ধর্ম সচিব বলেন, দেশে তিন লাখের বেশি মসজিদ রয়েছে এবং এর মধ্যে ২০ শতাংশকে আগামী জুলাই থেকে ভাতার আওতায় আনা হবে। এজন্য ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভাতার সুযোগ নেওয়ার জন্য যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে নতুন মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।