সরকারি দলের সদস্যদে উদ্দেশ্য করে সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা যখন কথা বলব তখন আমাদের কথাগুলো যেন দায়িত্বশীল আচরণ হয়।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নৌ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব হাসান বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় নৌ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব হাসান জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া তথ্যের সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৪০০ শহীদের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা গত ১৪ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে কীভাবে ১২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার দাবি করেন।একে তিনি ইতিহাসের নতুন বিকৃতি এবং ‘শহীদ ব্যবসা’র অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর পাল্টা বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদ সদস্য আমাকে কোট করে একটি কথা বলেছেন।বিষয়টি জুলাই শহীদদের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেছেন, শহীদদের সংখ্যা যদি ৮০০ প্লাস হয় তাহলে আমি ১২০০ বাড়িতে গেলাম কীভাবে? ফ্যামিলিতে গেলাম কীভাবে? উনাকে এখানে আমি এখন দেখছি না।উনি থাকলে উনাকে বলতাম যে, হিসাবটা প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার জন্য। সালাউদ্দিন টুকু সাহেব তার বক্তব্যে নিজেই বলেছেন যে, শুধু জাতীয়তাবাদী দল এবং তার অঙ্গ সংগঠনের লোকরাই শহীদ হয়েছে ১০০০ এর ঊর্ধ্বে। আমি যদি তার কথাটাই সমর্থন করি তাহলে এ হিসাব এখান থেকেই তিনি পাবেন। আমার কাছে কষ্ট করে আসতে হবে না।
আমি আনঅথেন্টিক কোনো কথা বলিনি। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে একটা কমপ্লিট প্রোফাইল আছে। এখানে উপস্থিত অনেকে আমাদের সেই প্রোফাইল পেয়েছে। আমাদের ওয়েবসাইটে এভেলেবল। চেক, ক্রস চেক করে আমরা নিশ্চিত হওয়ার পরেই তালিকাগুলো করেছি। এ ব্যাপারে আমার কথা নয়, এ দেশের কোনো সংস্থার উদ্ধৃতি নয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার ফ্যাক্স ফাইন্ডিং কমিটি বলেছে, এ সংখ্যাটা ১৪৫১। বিভিন্ন জায়গায় যখন যাই, কিছু মানুষ আসেন তারা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপরে বলেন, আমার বাবাটার কোন খবর আপনাদের কাছে আছে কিনা? ওই যে দুইদিন ইন্টারনেট বন্ধ করে মানুষ খুন করে, গুম করা হয়েছে। তাদের হিসাব তো কেউ দিচ্ছে না। এ সংখ্যা তো আরও বেশি। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা যখন কথা বলব তখন আমাদের কথাগুলো যেন দায়িত্বশীল আচরণ হয়।