টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার ধাক্কা সামলাতে না পেরে ইতালি জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব ছাড়লেন জেনারো গাত্তুসো। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক মিডফিল্ডার।
এক বছরেরও কম সময় দায়িত্ব পালন করার পর বিদায় নিতে হলো গাত্তুসোকে। সাম্প্রতিক দুই দশকে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়া ইতালির হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
মঙ্গলবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ ফাইনালে টাইব্রেকারে হারের পরই মূলত গাত্তুসোর বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। সেই ম্যাচে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে দুটি শট মিস করে ইতালি।
এই ব্যর্থতার পর ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গাব্রিয়েলে গ্রাভিনাও পদত্যাগ করেন। যদিও জেনিৎসায় ম্যাচের পর গ্রাভিনা গাত্তুসোকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তবে জাতীয় দলের জেনারেল ম্যানেজার জিয়ানলুইজি বুফনের বিদায়ের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের পথ বেছে নেন গাত্তুসো।
গত বছরের জুনে লুচিয়ানো স্পালেত্তিকে বরখাস্ত করার পর ইতালির কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন গাত্তুসো। ইউরো ২০২৪-এ শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থতা এবং বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারের জেরে স্পালেত্তিকে সরানো হয়েছিল।
গাত্তুসোর অধীনে ইতালির পারফরম্যান্স কাগজে-কলমে মোটামুটি ভালোই ছিল। আট ম্যাচে ছয় জয়, এক ড্র ও এক হার; মোট ২২ গোল করে ১০টি হজম করে দলটি।
তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায়। বসনিয়ার বিপক্ষে সেই ড্র এবং টাইব্রেকারে হার, পাশাপাশি সান সিরোতে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলের আরেকটি বড় পরাজয় তার অবস্থান দুর্বল করে দেয়।
ক্লাব পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্যের অভাব থাকায় গাত্তুসোকে শুরু থেকেই অনেকেই বিতর্কিত পছন্দ হিসেবে দেখেছিলেন। প্লে-অফে বিদায়ের পর সমালোচনা আরও তীব্র হয়, যার পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন এই ইতালিয়ান কিংবদন্তি।