ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের ওপর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে না পারলেও, যদি তারা ইরান-সমর্থিত এই সংঘর্ষে পূর্ণমাত্রায় জড়িয়ে পড়ে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালিতে অবরোধের চেষ্টা করে, তাহলে তা অঞ্চলে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্টন কলেজের প্রেসিডেন্ট এলিজাবেথ কেন্ডাল আল জাজিরার কাছে বলেছেন, যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে, এটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি হবে। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মানদেব প্রণালিতে যদি কড়াকড়ি বাড়ে, ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে, এমনকি সম্পূর্ণ স্থবিরও হয়ে যেতে পারে।
কেন্ডাল আরও বলেন, লোহিত সাগর এখন পর্যন্ত তেলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পথ।সৌদি আরবের ইয়ানবু হয়ে এই পথ দিয়ে তেল সরবরাহ হচ্ছে। যদি সেখানে আঘাত হানে, তা পাশার দান পাল্টে দিতে পারে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, হুথিরা বর্তমানে এমন এক অবস্থানে আছে, যেখানে তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিতে পারে কিন্তু সরাসরি বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে না। হুথিরা এখন সরাসরি সৌদি আরব বা অন্য কোনো শক্তিকে উত্তেজিত করার স্বার্থে নেই।হয়তো তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু এখনই বড় আঘাতের লক্ষ্য তাদের নয়।
কেন্ডাল আরও বলেন, হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি নীরব সমঝোতা থাকতে পারে। এই সমঝোতার ফলে হুথিরা তেল সরবরাহে বাধা দেবে না, লোহিত সাগরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না এবং সৌদি আরব সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাবে না।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেন বিষয়ক বিশ্লেষক আহমেদ নাগি বলেন, হুথিদের বর্তমান কৌশল কোনো দুর্বলতা নয়, বরং সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশের প্রতিফলন।তিনি জানান, হুথিরা ইসরায়েলকে সরাসরি লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলা চালিয়েছে, লোহিত সাগরে নয়।
নাগি বলেন, বাব আল-মানদেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম সংবেদনশীল ধমনী। এখানে তেল ও গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন নির্ভর করে। হুথিরা আপাতত ইরানের বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে, আলোচনায় ইরানকে সমর্থন জোগানো তাদের লক্ষ্য।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হুথিদের ভূমিকা যদি আরও সক্রিয় হয়, তাহলে লোহিত সাগর এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা