ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ইতি টানার মতো কোনো চুক্তি হলে তেলের দাম হুড়মুড় করে পড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা এবং এরপর ইরানের প্রতিশোধমূলক আঘাতে যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখার কারণে সে পথে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে আছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলছেন, আমাদের একটি চুক্তি হওয়ার বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে।
অবশ্য তিনি এ-ও যোগ করেন, কোনো কিছুর নিশ্চয়তা নেই; আমি কোনো কিছুর নিশ্চয়তা দিচ্ছি না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য দুই দেশ ১৫টি দফা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন ‘এক, দুই ও তিন নম্বর’ দফা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলছেন, তিনি ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার বড় পরিবর্তন’ দেখতে চান।
এর আগে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ‘ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
সোমবার (২৩ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৈরিতা পুরোপুরি নিরসনের বিষয়ে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চলমান বৈঠক ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে প্রতিরক্ষা বিভাগকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২২ মার্চ) ট্রাম্প তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে হরমুজ প্রণালি সব জাহাজের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর জবাবে ইরান জানায়, প্রতিশোধ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলার হুমকি দেয় তেহরান।
সোমবার ইসলামির রেভুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সব অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।এ ছাড়া যেখানে আমেরিকার অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি খাতে অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেসব অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হবে।
এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল সতর্ক করে বলেছে, দেশটির দক্ষিণ উপকূল বা দ্বীপগুলোতে কোনো হামলা হলে উপসাগরীয় নৌপথ বিচ্ছিন্ন করতে সমুদ্রে মাইন পেতে দেওয়া হবে।