দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা, দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট

দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা, দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট

ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তবে এর কোনোটিই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, তেহরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি মাঝপথেই বিকল হয়ে যায়। অন্যটি প্রতিহত করতে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করা হয়।তবে সেটি সফলভাবে ধ্বংস করা গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রবর্তী অপারেশন কেন্দ্র। যা বৈশ্বিক সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে এবং দূরবর্তী অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনায় এটি বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে।পাশাপাশি মার্কিন ভারী বোমারু বিমানের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে এই হামলার চেষ্টা ইঙ্গিত দেয়, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অনেক দূর পর্যন্ত নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বিস্তারের চেষ্টা করছে। প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত পাল্লা তারা আগে যেটা জানিয়েছিল, তার চেয়েও বেশি হতে পারে।

এর আগে গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, ‘তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ইচ্ছাকৃতভাবে ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

’ অর্থা’, তাদের ক্ষোপণাস্ত্রের পাল্লা যে আরও বৃহৎ, সেটি তিনি উল্লেখ করতে চাননি

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের এ হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস কিংবা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত মার্চে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে এ নিয়ে তার মতপার্থক্য তৈরি হয়। ট্রাম্প ওই সিদ্ধান্তকে তার দৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উদার বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

সূত্র: বিবিসি ও গার্ডিয়ান

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS