ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।
সোমবার (২ মার্চ) ফারস বার্তা সংস্থায় প্রচারিত বিপ্লবী গার্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জায়নিস্ট শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শাসনের বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তর লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এ হামলায় খেইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে।
অবশ্য নেতানিয়াহুর কার্যালয় এই দাবিকে নাকচ করেছে।তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্য অনিশ্চিত—ইরানের এমন দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবেও উড়িয়ে দিয়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলছে, প্রায় দুই ঘণ্টা আগে রাজধানীতে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠার পর জেরুজালেমে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। সব বিবেচনায় নেতানিয়াহুর কার্যালয় অক্ষত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েলি-মার্কিন বাহিনী।এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ প্রায় অর্ধশত শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তেলআবিবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।
আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। আক্রান্ত স্থাপনার মধ্যে হাসপাতাল, স্কুলসহ অনেক বেসামরিক স্থাপনা রয়েছে।
এর মধ্যে মেয়েদের একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১২১ জন।আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাতে আরব আমিরাতে ৩ জন, কুয়েতে ১ জন, বাহরাইনে ১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশিও আছেন।