৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি দেশটি শাসন করছেন। শিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সরকারের সব শাখা, সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর চূড়ান্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি তিনি।
যদি ধরে নেওয়া হয় তিনি শনিবারের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা থেকে বেঁচে গেছেন, তবুও ৩৬ বছরের শাসনকালে তিনি এখন সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, এই হামলা বিশেষভাবে খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। তবে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তেহরানে ছিলেন না, তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গত প্রায় চার দশক ধরে খামেনি উপসাগরীয় অঞ্চলের সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য একটি আঞ্চলিক শক্তি গড়ে তুলেছেন। একইসঙ্গে তিনি পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটিয়েছেন, যা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বরাবরই বৈরিতা প্রদর্শন করে আসছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে বারবার সৃষ্টি হওয়া বিক্ষোভও কঠোরভাবে দমন করেছে।
কিন্তু ইরানের ওপর শনিবারের এ হামলাগুলো এসেছে একের পর এক সংকটের মাঝে।
গত জুনে বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডারের প্রাণহানি ঘটানো হামলার পর খামেনি আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সেই হামলায় ইরানের মূল্যবান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।
নিষেধাজ্ঞার ভারে জর্জরিত ও তিক্ত-বিরক্ত জনগণের গত জানুয়ারিতে আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ বিক্ষোভ দমন করা হয় হাজার হাজার মানুষের জীবনের বিনিময়ে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তেহরান সমর্থিত হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকেই খামেনির আঞ্চলিক প্রভাব ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
নিরাপদে আছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বেশ কয়েকটি শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার কোনো ক্ষতি হয়নি।
শনিবার সকালে তেহরানে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ায় আকাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কোম, কারাজ, তাবরিজ এবং কেরমানশাহ শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।