সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) থেকে: দরজায় কড়া নাড়ছে নারী এশিয়ান কাপের এবারের আসর। আগামী ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার পার্থে উদ্বোধনের কথা থাকলেও সিডনিতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে আগেই। নিউ সাউথ ওয়েলসের পারামাট্টা এলাকা এখন আলো, সাজসজ্জা আর ফুটবল উচ্ছ্বাসে জমজমাট।
আগামী ৩ মার্চ সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।এই ম্যাচকে ঘিরে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পুরো এলাকায় ফুটবল থিমের সাজসজ্জা চোখে পড়ছে। সন্ধ্যা নামলেই আলোকসজ্জায় ভিন্ন রূপ নিচ্ছে পারামাট্টা।
পারামাট্টা নদীতে বসানো হয়েছে চার মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের একটি বিশাল ভাসমান ফুটবল।আগামী ১১ মার্চ পর্যন্ত এটি নদীতে থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত আলো ও সাউন্ড শো চলছে সেখানে। নদীর পাড়ে ঘুরতে আসা মানুষ এবং নৌপথের যাত্রীদের কাছে এটি বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ম্যাচের দিনগুলোতে ভিড় আরও বাড়ছে।
স্থানীয় আয়োজক কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিডনির বিভিন্ন স্থানে টুর্নামেন্ট ঘিরে আয়োজন চলছে। পশ্চিম সিডনিতে ছয়টি ম্যাচ এবং স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচটি ম্যাচ হবে। ফুটবলপ্রেমী এলাকায় ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে দর্শক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পারামাট্টা সিটি কর্তৃপক্ষ বলছে, এই আয়োজন শহরটিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মানচিত্রে আরও দৃশ্যমান করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি দর্শকদের সম্পৃক্ত করতে সড়কজুড়ে নানা কার্যক্রম রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল খান রতন বলেন, ‘৩ মার্চ বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ম্যাচকে ঘিরে এখানে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। শত শত গাড়ির বহর নিয়ে তারা স্টেডিয়ামে যাবে।’
সিডনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সহকারী ব্যবস্থাপক জুই সেন বলেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েরা ওমেন্স এশিয়ান কাপে খেলছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই সুযোগকে উদযাপন করছে।’

কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই সিডনিতে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। আয়োজকদের আশা, এই আয়োজন নারী ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়াবে এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দর্শকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।