News Headline :
ছোলার সালাদের ড্রেসিংয়ে কী দেবেন, দেখুন রেসিপি আটবার বিয়ে, সাতবার বিচ্ছেদ, কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীর জীবন সিনেমার মতোই মানুষ আবার সেটাকে নাটক না ভেবে নেয়, বিয়ে প্রসঙ্গে নাজনীন নীহা ১ কোটি ৮০ লাখ লাইক! রেকর্ড গড়ল রাশমিকার বিয়ের ছবি বিজয়ের বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ, বিচ্ছেদ চাইলেন স্ত্রী নারী এশিয়ান কাপের আগে ফুটবল উৎসবে রঙিন সিডনি ফের রিয়ালের প্রতিপক্ষ সিটি, নিউক্যাসলকে মোকাবেলা করবে বার্সা ‘সাকিব ইস্যুতে বোর্ডের কাজ শেষ, সিদ্ধান্ত এখন সরকারের’ পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত কি ‘প্রচলিত যুদ্ধে’ গড়াবে? দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

একসময় ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেছিল ব্রিটিশরা। এই অঞ্চলে তাদের উপনিবেশ স্থাপনের পথ তৈরি করা প্রভাবশালী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। শেষ দিকে লন্ডনে বিলাসবহুল খাদ্য ও পানীয় পণ্যের খুচরা বিক্রেতা হিসেবে পরিচালিত হওয়া প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়ন প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। খবর দ্য সানডে টাইমসের।

২০১০ সালে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ নামটি পুনরুজ্জীবিত করা হয় বিলাসী পণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে। উপনিবেশ নয়, বরং ঐতিহ্যকে ধারণ করে ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা ছিল এর লক্ষ্য। তবে দ্বিতীয় জীবনও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

১৮৫৭ সালে ভারতে সিপাহি বিদ্রোহের পর কোম্পানিটি প্রথমবার বিলুপ্ত হয়।ইতিহাসবিদদের মতে, বিশ্বের প্রথমদিকের বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলোর একটি ছিল এটি। বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ রাজপরিবার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কোম্পানিটিকে অধিগ্রহণ করে এবং তাদের ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী ভেঙে দেয়।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ২.০
২০০০ সালের শুরুর দিকে ভারতীয় উদ্যোক্তা সঞ্জীব মেহতা শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে কোম্পানির ঐতিহাসিক নামের স্বত্ব কিনে নেন। ২০১০ সালে তিনি লন্ডনের মেফেয়ারে ২,০০০ বর্গফুটের একটি দোকান চালু করেন, যেখানে চা, মিষ্টান্নসহ প্রিমিয়াম পণ্য বিক্রি হতো।

কোম্পানিজ হাউসের নথি অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড লিকুইডেটর নিয়োগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটি মূল কোম্পানি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গ্রুপের (ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত) কাছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি, কর বাবদ ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮৯ পাউন্ড ও কর্মীদের ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫ পাউন্ডসহ দেনা ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া নামধারী সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও বিলুপ্ত হয়েছে।

এক অধ্যায়ের সমাপ্তি
বর্তমানে ব্র্যান্ডটির ওয়েবসাইট আর সক্রিয় নয়। নিউ বন্ড স্ট্রিটের ৯৭ নম্বরের দোকানটি খালি পড়ে আছে এবং সিবিআরই নামের সম্পত্তি সংস্থা সেটির বিপণনের কাজ করছে।আরেকটি প্রতিষ্ঠান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কালেকশনস লিমিটেডও গত সপ্তাহে অবসানের আবেদন করেছে। যা সাধারণত শেষ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে ঋণদাতারা গ্রহণ করেন।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় রিটেইল প্ল্যাটফর্ম সেলফ্রিজেসের ওয়েবসাইটে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটি চা উপহার বাক্স তালিকাভুক্ত ছিল।

ঊনবিংশ শতকের শুরুতে প্রায় আড়াই লাখ ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী নিয়ে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী এ কোম্পানির উত্তরাধিকার এখনো বিতর্কিত। ইতিহাসবিদরা একে শোষণ, দাসব্যবসায় সম্পৃক্ততা এবং লাখ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া দুর্ভিক্ষকে তীব্রতর করায় যুক্ত করেন। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর এর শাসনের অবসান ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয়বারের মতো এই ব্র্যান্ডের পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা এখন খুবই ক্ষীণ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS