দাঁত মাজার জন্য ব্রাশের ব্যবহার সবারই জানা। তবে মুখের জন্য আলাদা ব্রাশ, এমন ধারণা অনেকের কাছেই নতুন। সম্প্রতি রূপচর্চার জগতে ‘ফেসিয়াল ব্রাশ’ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নরম দাঁড়ার এই বিশেষ ব্রাশটি তৈরি হয়েছে মুখে মাসাজ করা ও মৃত কোষ ঝরিয়ে দেওয়ার জন্য।ব্যবহারকারীরা বলছেন, এতে যেমন আরাম মেলে, তেমনি ত্বকও পায় সতেজ ভাব।
প্রসাধনী দুনিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই মুখের ব্রাশ। কারণ এটি ব্যবহার করা সহজ, ঝামেলাহীন এবং সময়ও লাগে খুব কম। দামও তুলনামূলক সাশ্রয়ী।নিয়ম করে চুল আঁচড়ানোর মতো প্রতিদিন ২-৩ মিনিট ব্যবহার করলেই ত্বকের ফোলা ভাব কিছুটা কমে এবং নিষ্প্রাণ ত্বকে ধীরে ধীরে জেল্লা ফিরে আসে বলে দাবি করা হচ্ছে। কোনো ক্রিম বা প্রসাধনী ব্যবহার না করেও এটি প্রয়োগ করা যায়, ফলে প্রায় সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযোগী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখের ক্লিনজিং ব্রাশকে কিছুটা তুলনা করা যায় ‘গুয়া শা’ পদ্ধতির সঙ্গে। গুয়া শা-তে পাথরের সাহায্যে সিরাম বা ক্রিম মেখে মুখে মাসাজ করা হয়, যা মুখকে টানটান ও ধারালো দেখাতে সহায়তা করে।
তবে ফেসিয়াল ব্রাশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুখে কিছু না লাগিয়ে শুকনো ত্বকে প্রয়োগ করা হয়।
ফেসিয়াল ব্রাশের উপকারিতা
• মৃত কোষ ঝরিয়ে ত্বককে প্রাণবন্ত করে তোলে
• ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে
• লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজে সহায়তা করে
• মুখের ফোলাভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করে
তবে ত্বক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, এটিকে জাদুকাঠি ভাবার কোনো কারণ নেই। দু’দিন ব্যবহারেই ত্বক ঝলমলে হয়ে উঠবে, এমন প্রত্যাশা অবাস্তব। নিয়মিত ব্যবহারে রক্ত সঞ্চালন বাড়ার ফলে ত্বকে কিছুটা উজ্জ্বলতা আসতে পারে। তবে মুখের গড়ন বা চোয়ালের আকৃতি পরিবর্তন হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।
যেভাবে ব্যবহার করবেন
• মুখের জন্য তৈরি নরম দাঁড়ার ছোট ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে।
• ব্রাশ ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তবে ত্বকে জল, ক্রিম বা অন্য কিছু থাকা যাবে না।
• গলার নিচ থেকে থুতনি পর্যন্ত নিচ থেকে ওপরে ব্রাশ করতে হবে।
• থুতনি থেকে গাল, এরপর কপালে ব্রাশ চালাতে হবে।
• ওপর থেকে নিচে ব্রাশ টানা যাবে না।
• চোখের চারপাশ, ব্রণ বা ফুসকুড়ির স্থান এড়িয়ে চলতে হবে।
• সপ্তাহে তিন দিন ২-৩ মিনিট ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।
• শেষে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
সতর্কতা
অতিরিক্ত জোরে ব্রাশ করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। তাই আলতোভাবে ও ধীরে ব্যবহার করা জরুরি। ত্বক অতিরিক্ত রুক্ষ হলে, সংক্রমণ বা সক্রিয় ব্রণ থাকলে ব্রাশ ব্যবহার না করাই ভালো। ভুল ব্যবহারে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের ধরন বুঝে ও সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ফেসিয়াল ব্রাশ হতে পারে রূপচর্চার একটি সহায়ক উপকরণ।