এরফানের মৃত্যুদণ্ডের রায়ই হয়নি, যুক্তরাষ্ট্র গুজবে প্রতারিত: ইরান

এরফানের মৃত্যুদণ্ডের রায়ই হয়নি, যুক্তরাষ্ট্র গুজবে প্রতারিত: ইরান

ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এরফান সোলতানি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা সত্য নয়। সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার রায়ই হয়নি।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিচার বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরফান সোলতানির নাম ব্যবহার করে সম্প্রতি প্রবাসে বসবাসকারী বিরোধীপক্ষ এবং তাদের সমর্থক মিডিয়াগুলো গুজব ছড়িয়েছে। উক্ত গোষ্ঠীর মিডিয়ার গুজব ও মিথ্যা প্রচারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি খবর তৈরি করে দাবি করেছে, এরফান সোলতানিকে আটক করে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিরোধী মিডিয়া এবং তাদের ভার্চুয়াল অনুসারীদের এই গুজব এতদূর পৌঁছেছিল যে, এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও প্রতারণার শিকার হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিরোধীদের উদ্দেশ্যমূলক ও মিথ্যা গুজব ছড়ানোর এই প্রতারণা নতুন কিছু নয়। এই মিথ্যাচারী ধারা পূর্বেও বহুবার ঘটেছে, যার সর্বশেষ উদাহরণ হলো-  মৃতদের পরিবার থেকে কোটি কোটি টাকা গ্রহণের ঘটনা এবং সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা সংক্রান্ত গুজব।উভয়ই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং উত্থাপিত দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে বলে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের (বিক্ষোভকারীদের) কোনো পরিকল্পনা নেই।

কে এই এরফান সোলতানি? তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
এরফান সোলতানি গত ১০ জানুয়ারি সহিংসতা চালানোর সময় আটক হন।

তার বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিরোধী সমাবেশে অংশগ্রহণ, ষড়যন্ত্র এবং শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। এরফান সোলতানি বর্তমানে কারাজের কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।

ইরনা জানিয়েছে, ১৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণকারী এই অভিযুক্তের অভিযোগ সম্পর্কে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনানুগ রায় হলে আইনে নির্ধারিত শাস্তি হবে কারাদণ্ড। মূলত এ ধরনের অভিযোগের জন্য আইনে মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান নেই।

ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের গুজব ছড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিভ্রান্ত করা প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট বিরোধী গোষ্ঠীগুলো বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং তারা তাদের সমর্থকদেরও বিভ্রান্ত করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS