সকালে দারুচিনি-পানি খেলে কমতে পারে ওজন

সকালে দারুচিনি-পানি খেলে কমতে পারে ওজন

দারুচিনি খুবই পরিচিত একটি মসলা। এটি মানবদেহের বিপাকের হার বৃদ্ধি করে। এছাড়া দারুচিনি হজম ক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এমনকি, দারুচিনিতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও রয়েছে, যা ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

পাশাপাশি এটি শরীরকে দূষণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষে ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা নেয়।

অনেকেরই সকালটা চনমনে করে দেয় ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা অথবা কফি। এই চা, কফিতেও যদি এক চিমটি দারুচিনিগুঁড়া মেশানো যায়? তখন যে তা দারুণ এক পানীয়তে পরিণত হবে, তা কি অনুমান করতে পারেন? কিন্তু রোজ সকালে দারুচিনির পানি খেলেন, অথচ মাসের শেষে কোনো ফলই পেলেন না! খাওয়ার সময় বেশ কিছু ভুল এড়িয়ে না চললে দারুচিনির সব পুষ্টিগুণ শরীরে পৌঁছায় না। তাই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে দারুচিনি খাওয়ার আগে কিছু জরুরি বিষয় মাথায় রেখে চলতে হবে।

১. সঠিক প্রজাতির দারুচিনি ব্যবহার করতে হবে। বাজারে মূলত দু-ধরনের দারুচিনি কিনতে পাওয়া যায়, সেলন আর ক্যাসিয়া। সেলন প্রজাতির দারুচিনির মান বেশি ভালো হয়। দারুচিনিতে কমারিন নামক একটি যৌগ পাওয়া যায়, যা বেশি মাত্রায় শরীরে গেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।

ক্যাসিয়াতে কমারিনের মাত্রা বেশি থাকে। সেলন দারুচিনির স্বাদ মিষ্টি মিষ্টি হয়। এর রং সাধারণত হালকা বাদামি হয়ে থাকে। অন্য দিকে, কাসিয়া দারুচিনির স্বাদ একটু ঝাল হয়, এর রংও গাঢ় হয়। সেলনের দাম কাসিয়ার তুলনায় অনেকটাই বেশি।সেলন প্রজাতির দারুচিনি বেশি স্বাস্থ্যকর।

২. খুব বেশি রান্না করলে দারুচিনির গুণ নষ্ট হয়ে যায়। রান্নাতেও তাই একেবারে শেষে এই মসলা ব্যবহার করলে তবেই শরীরে এর পুষ্টিগুণ পৌঁছোবে। আর দারুচিনির পানি বা চা বানানোর সময়ে খুব বেশি ফোটানোর প্রয়োজন নেই। কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখলেই কাজ হবে।

৩. বাজার থেকে দারুচিনি কেনার সময় গোটা কিনুন। দারুচিনির গুঁড়া ব্যবহার না করাই ভালো। বাড়িতে দারুচিনি গুঁড়া করার সময়েও অনেকটা একসঙ্গে করবেন না। দারুচিনির গুঁড়া বেশি দিন ফেলে রাখলে তার গুণ নষ্ট হয়ে যায়।

দারুচিনির মাত্রার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সারা দিনে ১-২ চা চামচের বেশি না খাওয়াই ভালো। খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে দারুচিনির পানি খাওয়া ভালো। এতে রক্তের শর্করার মান নিয়ন্ত্রণে থাকে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে। টানা এক মাস খাওয়ার পর অবশ্যই কিছু দিনের বিরতি নিতে হবে। গরমের সময় রোজ দারুচিনি না খাওয়াই ভালো, কারণ এই মসলা শরীর গরম করে।

সতর্কতা
থাইরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখের ওষুধ খেলে এই পানীয় খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। ওষুধ খাওয়ার কতক্ষণ আগে ও পরে এই পানীয় খাওয়া যাবে না, সেটাও জেনে নেওয়া জরুরি। 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS