ইরানে বিক্ষোভ তীব্র, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন

ইরানে বিক্ষোভ তীব্র, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন

ইরানে চলমান তীব্র অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেটব্লকস জানায়, ইন্টারনেট বন্ধের আগে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ধাপে ধাপে ডিজিটাল সেন্সরশিপ জোরদার করা হচ্ছিল। সংস্থাটির মতে, এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জনগণের যোগাযোগের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং স্থানীয় মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে মানুষ রাস্তায় নামতে শুরু করে। রাজধানী তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ জন শিশু এবং ৮ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন।এ ছাড়া ২ হাজার ২৭০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ২১ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তিনি বলেন, তেহরানের একাধিক সড়ক অবরুদ্ধ করা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্ন সুর দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ মোকাবিলায় সংযম দেখানোর আহ্বান জানালেও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাঙ্গাকারীদের ‘উচিত শিক্ষা দেওয়ার’ কথা বলেছেন। প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলমান বিক্ষোভে আরও প্রাণহানি এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তার মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক সোমবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘তিনি কর্তৃপক্ষকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠনের অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছেন।’ দুজারিক বলেন, ‘সব মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো এবং তাদের অভিযোগ প্রকাশ করার সুযোগ থাকতে হবে।’ 

এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে। ২২ বছর বয়সী এই তরুণী কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে মারা যান। বর্তমান পরিস্থিতিতেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আহত বিক্ষোভকারীদের আটক করতে হাসপাতালগুলোতে অভিযান চালানোর অভিযোগ তুলেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS