যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার ‘আন্তর্জাতিক আইন’র দরকার নেই। বিশ্বজুড়ে তিনি যে আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কেবল তার ‘নিজস্ব নৈতিকতা’।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অপহরণের ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তার বৈশ্বিক ক্ষমতা চর্চার কোনো সীমা আছে কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, একটি জিনিস আছে। আমার নিজের নৈতিকতা। আমার নিজের মন। একমাত্র এটিই আমাকে থামাতে পারে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার আন্তর্জাতিক আইন দরকার নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাই না।’
আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘মানতে হয় বটে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা আপনি কীভাবে দেন, তার ওপর নির্ভর করে।’
নিজের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির নির্মম ব্যবহারেও তিনি আগ্রহী—এমন মনোভাব বারবারই দেখিয়েছেন ট্রাম্প।
গত ৩ জানুয়ারি ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায়। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন স্থানে এবং ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কমান্ডোরা কারাকাস থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাকে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে কথিত বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে তা জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন, যেখানে কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ‘বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ওপর এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মাদুরোকে অপহরণের পর ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকেও হুমকি দেন। তিনি বলেন, কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়টি ‘ভালো শোনাচ্ছে’। এমনকি ট্রাম্প একাধিকবার পেত্রোকে ‘সাবধান থাকতে’ও বলেন।
এরপর তিনি মেক্সিকোকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, কার্টেলের আস্তানাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র শক্তভাবে আঘাত হানে। মাদক কারবারের বড়বড় কার্টেল মেক্সিকোতে সক্রিয় বলে ট্রাম্প মনে করেন।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়েও ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বারবার প্রকাশ পেয়েছে। এ নিয়ে ডেনমার্কসহ ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের মন কষাকষি চলছে।