মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা: ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান, ন্যায়বিচারের দাবি

মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা: ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান, ন্যায়বিচারের দাবি

রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়ীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সরকার ঘোষিত ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন নিহত (শহীদ) ও আহতদের পরিবার। তাদের দাবি, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়-দায় নির্ধারণ, বিচার, শহীদি মর্যাদা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

লিখিত বক্তব্যে দুই সন্তান হারানো নাজিয়া ও রাফির বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টা ১২ মিনিটে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।

এতে পাইলটসহ ৩৬ জন নিহত এবং ১৭২ জন আহত হন। নিহতদের অধিকাংশই ছিল স্কুলের শিক্ষার্থী। এ ছাড়া কয়েকজন অভিভাবক, একজন শিক্ষিকা ও একজন পরিচারিকাও নিহত হন।

তিনি বলেন, সামরিক প্রশিক্ষণ বিমান স্কুল প্রাঙ্গণে বিধ্বস্ত হয়ে এত বেশি হতাহতের ঘটনা বিরল।দুর্ঘটনার পরদিন ২২ জুলাই জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয় এবং দেশ-বিদেশ থেকে শোকবার্তা আসে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হলে আদালত ক্ষতিপূরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রুল জারি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শহীদ পরিবারকে ২০ লাখ টাকা এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে ২৯ ডিসেম্বর এক কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব গণমাধ্যমে আসে।

সব সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে পরিবারগুলো জানান, ক্ষতিপূরণ নয়-আগে দায় নির্ধারণ ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো-

  • দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
  • হাইকোর্টের রুল অনুযায়ী যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান
  • নিহত সবাইকে শহীদি মর্যাদা ও সনদ প্রদান
  • ২১ জুলাইকে জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস ঘোষণা ও স্মৃতি সংরক্ষণে স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ
  • শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা অর্থের বিনিময়ে সন্তান হারানোর শোক ভুলতে চান না। তারা ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের নিশ্চয়তা চান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এরিক্সন মার্মার বাবা উস্যামং মার্মা, আহত মেহরিনের বাবা মো. সালাউদ্দিন, সন্তান আনতে গিয়ে নিহত লামিয়া আক্তারের স্বামী মো. আমিনুল হক আমির, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী শহীদ তাসনিয়া হকের বাবা নাজমুল হক, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শহীদ তানভীর আহমেদের বাবা রুবেল মিয়াসহ আরও অনেকে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS