সংবাদ সম্মেলনে ডিবি
ঢাকার মিরপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয় জুলাই বিপ্লবী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
হাদি হত্যা মামলার তদন্তের অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা শেষে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
শফিকুল ইসলাম জানান, হাদিকে গুলি করা পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার এবং পাঁচজন পলাতক রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, ওসমান হাদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে অতিপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন।তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিগত দিনের কার্যকলাপ সম্পর্কে সভা-সমাবেশে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক জোরালো বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও এর সংগঠনের নেতাকার্মীরা ক্ষুব্ধ হন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফয়সাল ও আলমগীরকে পলায়নে সহায়তা করা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর ছিলেন।
কাজেই আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে তদন্তে প্রকাশ পায় যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের কথিত ভিডিওবার্তা নিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, ভিডিও বার্তা দিতেই পারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী জুলাই বিপ্লবী ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি করে দুই সন্ত্রাসী। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
গুলি করার পর শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।এর মধ্যে ফয়সাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা।
হাদিকে গুলির ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা করেন। পরে ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ধারা সংযোজনের নির্দেশ দেন।