ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল, ফয়সালের বোন জেসমিন, আলমগীর ও ফিলিপসহ পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের পরিকল্পনায় এই ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
তদন্তে জানা গেছে, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে সভা-সমাবেশ, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক ও জোরালো বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। এতে ওই সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
তিনি আরও জানান, শহীদ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।ফয়সাল করিম ও তার প্রধান সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পলায়নে সার্বিক সহায়তা করেন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী (৪৩), যিনি পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয় নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক কাউন্সিলর।
আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভিকটিমের পূর্ববর্তী বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত বক্তব্য বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট হয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ডিবি প্রধান জানান, সার্বিক তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীর বক্তব্য, ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় আসামিদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে। এজাহারনামীয় পলাতক আসামিরা হলেন, ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), আলমগীর হোসেন (২৬), তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী (৪৩), ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১), জেসমিন আক্তার (৪২) এবং তদন্তে প্রাপ্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামি, হুমায়ুন কবির (৭০), হাসি বেগম (৬০), সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), মারিয়া আক্তার লিমা (২১), কবির (৩৩), নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), সিবিয়ন দিও (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭), মো. ফয়সাল (২৫) এর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০-বি/৩০২/২০১/১০৯/৩৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই মামলার বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বা অন্য কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধেও সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।
১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি রাজধানীর পল্টন থানাধীন বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন। পরে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিবিড় তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মামলার চার্জশিট দাখিল করে।