দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার দপ্তর ও সংস্থাগুলো চলমান আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে এসব কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, জেলা তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস, চট্টগ্রাম কর্তৃক বন্যা/ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটা প্রতিরোধ, শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণে আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা, দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার এড়িয়ে চলাসহ অন্যান্য জনসচেতনতামূলক সড়ক প্রচার/মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস, হবিগঞ্জের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলার সব উপজেলায় বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে কোনো পানিবন্দি পরিবার নেই।কোনো হতাহত হয়নি এবং জেলায় পাহাড়ধস/ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৬.০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস, হবিগঞ্জ কর্তৃক সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস, খাগড়াছড়ির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল থেকে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরেনি। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস, খাগড়াছড়ি কর্তৃক ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার অব্যাহত রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। কক্সবাজার জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৬টা পর্যন্ত) ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বর্তমানে রামুর বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩.৮১ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে (যা সম্পূর্ণ নিরাপদ)। চকরিয়ার চিরিঙ্গার মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ২.৬২ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে (যা সম্পূর্ণ নিরাপদ)। কক্সবাজার জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। আবহাওয়ার সার্বিক অবস্থা এখন ভালো রয়েছে।
তথ্যবিবরণীতে আরও জানানো হয়, জেলা তথ্য অফিস, মৌলভীবাজারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলার বন্যার পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। আকস্মিক বন্যায় মৌলভীবাজার জেলায় ৫৭ হেক্টর কৃষি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৪০৫টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৫৪টি গ্রামীণ রাস্তা (এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস, মৌলভীবাজার কর্তৃক বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
জেলা তথ্য অফিস, রাঙামাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। ভারী বর্ষণের প্রথম থেকেই পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার অব্যাহতভাবে চলছে।
জেলা তথ্য অফিস, বান্দরবান থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র হতে লোকজন তাদের বাসা-বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে।
তথ্য অফিস, লামার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দিনের বেশিরভাগ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং সারাদিন থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। বন্যা, পাহাড়ধস বা ভূমিধসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাতামুহুরী নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক ছিল।
তথ্য অফিস, রামগড়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী রামগড়ে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কিছু কিছু স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি না থাকায় বর্তমানে ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত নতুন করে পাহাড়ধসের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তথ্য অফিসের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার, বন্যা পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।