পূর্ববর্তী বছরের লোকসান থেকে বেরিয়ে এসেছে পুজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি। বিদায়ী বছরে
পুনরায় লাভজনক অবস্থানে ফিরে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির কনসোলিডেটেড কর-পরবর্তী নেট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। যেখানে ২০২৪ সালে কোম্পানিটির নেট লোকসান ছিল ৭৯৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
অ-ব্যাংক এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই ইতিবাচক পরিবর্তনের মূলে বয়েকা আদায়ের উদ্যোগ, খেলাপি ঋণ ও লিজ হিসাব পুনঃতফসিলকরণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখে। যা এক বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য প্রভিশন রাইট-ব্যাকে সাহায্য করে।
জানা গেছে, আর্থিক সমাপ্ত বছরে প্রতিষ্ঠানটির কনসোলিডেটেড শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) উন্নীত হয়ে ১.১৯ টাকা দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরে ছিল ঋণাত্নক ৪১.৬১ টাকা। একই সময়ে নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) পূর্ববর্তী বছরের ঋণাত্নক ৩০.০৫ টাকার তুলনায় শেয়ার প্রতি উন্নত হয়ে ঋণাত্নক ২৯.০৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ব্যালেন্স শিট স্থিতিশীলকরণের দিকে নির্দেশ করে।
২০২৫ সালের জন্য কোম্পানির প্রভিশন কভারেজ রেশিও প্রায় ৪৯৬.৯৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা শক্তিশালী আর্থিক সুরক্ষা এবং দূরদর্শী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অর্জিত মুনাফা পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চলমান বকেয়া আদায় কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।
তবে চলমান রিকোভারি কার্যক্রম, কৌশলগত পুনর্গঠন এবং সহায়ক নীতিমালা ভবিষ্যতে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ সুগম করবে বলে আশা করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ।