বিএনপির সাবেক মহাসচিব অ্যাডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১৬ মার্চ)।
২০১১ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
দলীয় সূত্র জানায়, দিনটি উপলক্ষ্যে রাজধানীতে দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি এবং মানিকগঞ্জে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
তার পারিবারিক সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ জেলা শহরের দলীয় কার্যালয় ও ঘিওর উপজেলার পাচুরিয়ায় তার নিজ গ্রামে দোয়া মাহফিল ও ইফতারের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন অভিজ্ঞ ও আলোচিত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। দলের কঠিন সময়ে তিনি মহাসচিব হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
দলের সাবেক মহাসচিব অ্যাডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপির সাবেক মহাসচিব, স্বাধীনতা সংগ্রামী, ভাষা সৈনিক ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকীর এই দিনে আমি তার বিদেহী আত্মার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।’
তিনি বলেন, ‘মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছিল বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, একজন আত্মপ্রত্যয়ী, আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের মানুষের মনে শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত থাকবেন। কথার সঙ্গে কাজের মিল ছিল তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। দৃঢ়তা, অটুট মনোবল এবং ব্যক্তিত্বে তিনি ছিলেন অনন্য উচ্চতায় একজন ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের মুক্তির সব সংগ্রামে তিনি রেখেছেন অসামান্য অবদান। মৃত্তিকা ঘনিষ্ঠ এই রাজনীতিবিদ আজীবন জনকল্যাণে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘১/১১-তে দেশের এক চরম রাজনৈতিক সংকটকালে বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত রুখে দিতে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনকে বুকে ধারণ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে অ্যাডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের অবদান দল ও দেশবাসী চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।’
সবশেষে তিনি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ১৯৩৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার পাচুরিয়া বালিয়াখোড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির মহাসচিব ছাড়াও দীর্ঘদিন তিনি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।