বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, তা এক বা পনেরো মাসে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে সময়, ধৈর্য ও সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরকে নিজের ‘নানিবাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করে আবেগময় স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি বলেন, মানুষ সাধারণত নানাবাড়ি বলে, কিন্তু দিনাজপুরকে মনে হলেই আমার ‘নানিবাড়ি’র কথাটা মনে হয়। স্বাভাবিকভাবেই এ এলাকার প্রতি আমার একটা টান ও দায়িত্ববোধ রয়েছে।’
সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের কাছে যে ওয়াদাগুলো করেছিলাম, ইতোমধ্যে তার কাজ শুরু করেছি। দিনাজপুরের কাহারোল থেকে খাল খনন কর্মসূচির কাজ শুরু হয়েছে।আগামী ৫ বছরে দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাব দূর হবে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক হবে এবং আর্সেনিক সমস্যা কমবে।
কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার কথা বলেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সেটি করেছি।
আগামী মাসের ভেতরেই কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার পাইলট প্রজেক্ট শুরু হবে।’
নারী ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের কথা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছি। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে দিনাজপুর-৬ আসনসহ দেশের ১৫টি জায়গায় মোট ৩৬ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এটি ইউনিভার্সেল (সর্বজনীন) কার্ড, সব নারীই এটি পাবেন।তবে যাদের এই সহায়তা প্রয়োজন নেই, তারা দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এটি নেবেন না বলে আমরা আশা করি।’
তিনি আরও জানান, সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যেই নির্বাচনের ওয়াদা অনুযায়ী মসজিদ-মাদরাসার ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে দিনাজপুরে কৃষিসংক্রান্ত কলকারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘ঈদের পরে আমরা শিল্পপতি ও কারখানার মালিকদের সঙ্গে বসবো। এ এলাকায় কৃষিনির্ভর কী কী মিল-কারখানা তৈরি করে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, সে ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করব। এছাড়া লিচু, আলু, টমেটো ও আমের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের কাজও ধীরে ধীরে করা হবে।’
দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশটিকে গড়তে হলে আমাদের সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। যারা এ সরকারকে ভোট দিয়েছেন, আর যারা দেননি এই সরকার প্রত্যেকের সরকার। দেশের মানুষের জন্য এ সরকার কাজ করতে চায়। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই সরকার রাতদিন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং নানা ধর্ম-বর্ণের হাজারো সাধারণ মানুষ এ ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।