নতুন কোনো লুটেরাদের ক্ষমতায় যেতে দেব না: নাহিদ ইসলাম

নতুন কোনো লুটেরাদের ক্ষমতায় যেতে দেব না: নাহিদ ইসলাম

নতুন কোনো লুটেরাদের ক্ষমতায় যেতে দেব না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বরে আদর্শ স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রথম দফা, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নাই।অন্য কোনো প্ল্যান কাজে দেবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। উভয় দলের জন্য একই রকম আচরণবিধি থাকতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না।

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমরা এখনো মুখে বলে যাচ্ছি, আমরা এখনো মাঠে নামি নাই। আমরা মাঠে নামব নির্বাচনের জন্য, আন্দোলনের জন্য মাঠে নামতে বাধ্য করবেন না।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, আমাদের ভাই শরিফ ওসমান হাদিকে স্মরণ করছি। শরিফ ওসমান হাদি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র, ভোটাধিকারের পক্ষে লড়াই শুরু করেছিলেন ঢাকা-৮ আসনে, আজকের সমগ্র বাংলাদেশে এই লড়াই ছড়িয়ে গেছে।

ইনসাফ, আজাদি এবং সার্বভৌমত্বের লড়াই।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি আমাদের জাতীয় লড়াই শেষ হয়ে যায় নাই। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলমান। আধিপত্যবাদী ফ্যাসিস্ট শক্তি এখনো দিল্লিতে বসে নানান ষড়যন্ত্র করতে পারছে। ফলে আমাদের জাতীয় লড়াই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং দেশে ভেতরে দুর্নীতি চাঁদাবাজ এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই।এই উভয় লড়াই আমাদের একসাথে চালিয়ে যেতে হবে।

নাহিদ আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন রাজনীতি শুরু করেছিলাম, নতুন বাংলাদেশের কাজ শুরু করেছিলাম, আমরা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের অনেক অসমাপ্ত কাজ রয়ে গিয়েছে। ইনশাল্লাহ এবারে নির্বাচনে দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আমরা সেই অসমাপ্ত কাজ ঐক্যবদ্ধভাবে সমাপ্ত করব।

কারো নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আমরা শুনছি বিভিন্ন কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আমরা চাই কার্ড দেওয়া হোক, জনগণ সুবিধা পাক। কিন্তু এই কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো? ২০০০ টাকার কার্ড নিতে ১০০০ টাকা ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো? ঘুষ চাঁদাবাজি যদি আমরা নির্মূল করতে না পারি, তাহলে এইসব সুযোগ-সুবিধা জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে?

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, একদিকে বলা হচ্ছে কার্ড দেওয়া হবে, আরেক দিকে ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আদালতকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, এটা কেমন দ্বিচারিতা। যদি প্রকৃতপক্ষে জনগণকে সুবিধা দেওয়ার নিয়ত থাকে, তাহলে কেউ ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিতে পারে না। যারা ঋণ পরিশোধ করে নাই, তারা সংসদ গেলে কি আর ঋণ পরিশোধ করবে? এরা আবারও ঋণ নেবে, আবারো টাকা লুট করবে, বিদেশে পাচার করবে। আমরা এই বাংলাদেশ চাই নাই। আমরা তো সেই লুটেরাদের বিরুদ্ধেই গণঅভ্যুত্থান করেছি। ফলে নতুন কোনো লুটেরাদের ক্ষমতায় যেতে দেব না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের ক্ষমতায় যেতে দেবে না। 

বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বলা হচ্ছে বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। বস্তিবাসী আমাদের কাছে আপনাদের কাছে ফ্ল্যাট চায় নাই। বস্তিবাসী চায় নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা। বস্তিবাসী চায় মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান। বস্তিবাসীকে ঢাকা শহরে আজ পর্যন্ত যারা ফ্ল্যাট দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে, তারা বস্তি উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেছে। তারা বস্তিতে আগুন লাগিয়েছে। বলা হয়েছে আপনাদের ফ্ল্যাট দেব, আপনারা বস্তি থেকে উচ্ছেদ হন। আল্লাহ না করুক, হয়তো এই ধরনের কোনো প্ল্যান নাই!

১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার বদলের নির্বাচন নয়, দেশ বদলের নির্বাচন। এবারের নির্বাচন ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তনের নির্বাচন। নির্বাচনে একটা গণভোটও আছে, সেটা অনেকেই ভুলে যায়। কিন্তু আমরা ভুলি না, জনগণও ভুলবে না। ইনশাল্লাহ গণভোটে ‘হ্যা’ জিতবে, দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে।

ঢাকা-১৫ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহমান মুসার সভাপতিত্বে ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শহীদ আব্দুল হান্নান খানের ছেলে ডা. সাইফ খান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মো. তসলিম, কাফরুল দক্ষিণ থানা আমির আনোয়ারুল করিম, কাফরুল পশ্চিম থানা আমির আব্দুল মতিন খান, কাফরুল উত্তর থানা আমির রেজাউল করিম মাহমুদ, জুলাইযোদ্ধা কাজী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS