প্রাচীনকাল থেকেই ঘরোয়া চিকিৎসায় হলুদের ব্যবহার রয়েছে। শুধু রান্নায় রং ও স্বাদ বাড়াতেই নয়, দেহকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে এই মসলা যুগ যুগ ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে হলুদ মেশানো পানি পান করা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ হলুদ পানি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হজম শক্তি উন্নত করতে, এমনকি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
হলুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। নিয়মিত হলুদ মেশানো পানি পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে, সংক্রমণ প্রতিরোধে দেহ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে শরীর থাকে বেশি সুস্থ ও সতেজ।
হজম শক্তি উন্নত করে
নিয়মিত হলুদ পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। এটি গ্যাস ও অস্বস্তি দূর করতে সহায়তা করে।হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য হজমতন্ত্রের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে, ফলে হজম স্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নতি ঘটে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
খালি পেটে হলুদ পানি পান করা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য এটি উপকারী হিসেবে বিবেচিত হয়। ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতেও হলুদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ পাওয়া যায়।
প্রদাহ কমায়
হলুদে উপস্থিত কারকিউমিন শরীরে প্রদাহ কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত হলুদ পানি পান করলে শরীরের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমতে পারে, যা বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক
নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় হলুদ পানি পান করলে হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এটি রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখায় সাহায্য করে এবং শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস শুরু করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।কারণ যেকোনো ভালো জিনিসও সঠিক মাত্রায় ও সঠিক পদ্ধতিতে গ্রহণ করলেই উপকারী হয়। তাই সচেতন খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পরিমিত হলুদ পানি হতে পারে সুস্থ জীবনের আরেকটি স্বাভাবিক সহায়ক উপায়।