শীতের সকালে বিছানা ছাড়তে কারই বা ভালো লাগে! বড়দের মতোই ছোটরাও ঠান্ডার কারণে অলস হয়ে পড়ে, ফলে সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন অভিভাবকরা। ঘুম ভাঙাতে দেরি, রাগারাগি, কান্নাকাটি, সব মিলিয়ে অনেক অভিভাবকের কাছেই এটি যেন প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ। তবে একটু সচেতনতা ও পরিকল্পনা পাল্টে দিতে পারে এ দৃশ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের আচরণে আলস্য ও অনীহা থাকলেও সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তারা সময়নিষ্ঠ হতে শেখে এবং নিজেরাই দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
এজন্য পরিবারকেই নিতে হবে কিছু কার্যকর উদ্যোগ।
প্রথমেই কমাতে হবে স্ক্রিন টাইম। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই টিভি বা মোবাইলে মনোযোগ চলে গেলে তাদের অন্য কাজে মন বসে না। তাই সকালে স্ক্রিন দূরে রাখাই ভালো।পাশাপাশি শিশুদের ছোট ছোট দায়িত্ব দেওয়া জরুরি, জুতা পরা, টিফিন ও ব্যাগ গুছানো, পানির বোতল ভরা, এ ধরনের কাজ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং দায়িত্বশীল করে তোলে।
শীতের সকালে সহজে জাগাতে হলে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস করানো সবচেয়ে জরুরি। ঘুমানোর আগে স্কুলের ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখলে সকালে ঝামেলা কমে যায়। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো-জাগার রুটিন তৈরি হলে শিশুরা বিরক্ত না হয়ে স্বাভাবিকভাবেই উঠতে শিখবে।
এ ছাড়া নাশতার প্রস্তুতি আগে থেকেই ঠিক করে রাখা উচিত। দ্রুত তৈরি করা যায় এমন স্বাস্থ্যকর খাবার, দুধ, ওটস, ফল বা স্যান্ডউইচ, শিশুদের মন ভালো রাখার পাশাপাশি সকালের ব্যস্ততাও সহজ করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বকাঝকা নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য ও ভালোবাসা দিয়েই শীতের সকালেও শিশুকে স্কুলমুখী করা সম্ভব। অভ্যাস বদলালেই বদলে যাবে সকাল, আনন্দেই শুরু হবে নতুন দিন।