শুধু ঢাকাই বাংলাদেশ নয়, বিভাগীয় শহরেও মানুষ সিনেমা দেখতে চান: রিজওয়ানা হাসান

শুধু ঢাকাই বাংলাদেশ নয়, বিভাগীয় শহরেও মানুষ সিনেমা দেখতে চান: রিজওয়ানা হাসান

‘শুধু ঢাকা মানেই বাংলাদেশ নয়, আমাদের বিভাগীয় শহরেও অনেক মানুষ আছেন, যারা সিনেমা দেখতে চান’। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। 

তিনি আগামী বছর থেকে এই উৎসবকে সারাদেশে কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে উৎসব কর্তৃপক্ষ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানান।

‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগানকে সামনে রেখে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটিজের আয়োজনে পর্দা উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের।

থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি ও জলতরঙ্গ গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যদিয়ে এদিন বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী পর্ব।

এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল। তিনি জানান, এবার প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্টে উৎসবের চলচ্চিত্রগুলোর উন্মুক্ত প্রদর্শনী হচ্ছে। আগামী বছর সেখানে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শিওপেং এবং ক্রোয়েশিয়ান যুক্তরাজ্যভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মারকোভিচ। 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বক্তব্যের শুরুতে তিনি এবারের কক্সবাজারের আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে আগামী বছর প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘শুধু ঢাকা মানেই বাংলাদেশ নয়, আমাদের বিভাগীয় শহরেও অনেক মানুষ আছেন, যারা সিনেমা দেখতে চান; তাই আগামী বছর যেন এই চলচ্চিত্র উৎসবকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, উৎসব কর্তৃপক্ষ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে তা নিয়ে ভাবার আহ্বান জানাই।’ 

৯ দিনব্যাপি এই উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শিত হয় চেন শিয়াং পরিচালিত চীনের সিনেমা ‘উ জিন ঝি লু’ (দ্য জার্নি টু নো এন্ড)। সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে মোহাম্মদ আসাদানিয়া পরিচালিত ইরানি সিনেমা ‘উইদাউট মি’।

এবারের উৎসবে এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, রেট্রোস্পেকটিভ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্ম সেশন, উইমেন ফিল্মমেকার বিভাগ, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম এবং ওপেন টি বায়োস্কোপ বিভাগে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র দেখানো হবে।

জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নাট্যশালার মূল মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মিলনায়তনে হবে এসব প্রদর্শনী।

এবারই প্রথম কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হবে ওপেন এয়ার স্ক্রিনিং। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবের সিনেমাগুলো লাবণী বিচ পয়েন্টে দেখানো হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

উৎসবে এবারও অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট মিটস ইস্ট স্ক্রিনপ্লে ল্যাব। এ বছর থেকে এই ল্যাব শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, পুরো এশিয়া মহাদেশের নির্মাতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে থেকে শীর্ষ ১০টি প্রকল্প নির্বাচিত করা হয়েছে। এই ল্যাবে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য পাবে নগদ ৫ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারকারী চিত্রনাট্য পাবে ৩ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থান জয়ী চিত্রনাট্য পাবে ২ লাখ টাকা।

১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে মাস্টারক্লাস। দিনব্যাপী এই আয়োজনে বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কথা বলবেন সুইস ফিল্ম ম্যাগাজিন সিনেবুলেটিনের এডিটর ইন চিফ টেরেসা ভিনা, ক্রোয়েশিয়ান নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মারকোভিচ এবং বাংলাদেশের নির্মাতা ও প্রোডাকশন ডিজাইনার লিটন কর।

১৮ জানুয়ারি পর্দা নামবে ঢাকা উৎসবের। সমাপনী দিনে বিকেল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনুষ্ঠান শেষে দেখানো হবে উৎসবে সেরার পুরস্কার পাওয়া সিনেমাটি। সংগীত পরিবেশন করবেন আহমেদ হাসান সানি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS