News Headline :
মানব পাচার প্রতিরোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি সহজ করতে শিপিং ডকুমেন্ট সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পাঠানোর সুযোগ বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মালদ্বীপে অগ্নিকাণ্ড, রবিন মোল্লার লাশ রাতে ঢাকায় পৌঁছাবে অবসরে গেলেন র‍্যাব ডিজি শহিদুর রহমান ও এসবির অতিরিক্ত আইজি গোলাম রসুল গাড়ি কম, দীর্ঘ লাইনে যাত্রীদের অপেক্ষা কাঙ্ক্ষিত দেশ গড়তে দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী রাকিবকে কুপিয়েছিলেন গ্রেপ্তার যুবক, বিরোধ ছিল দাবি পরিবারের ‘হাদি হত্যায় ভারতে গ্রেপ্তারদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস এখনো মেলেনি’ উন্নত দেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, ‘ওরা পারলে আমরা কেন পারবো না?’
স্বামীর কবরেই চিরনিদ্রায় মতিয়া চৌধুরী

স্বামীর কবরেই চিরনিদ্রায় মতিয়া চৌধুরী

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক উপনেতা ও মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বাদ জোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মরদেহ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নেয়া হয়। পরে স্বামী বজলুর রহমানের কবরে তাকে দাফন করা হয়।


এর আগে সকালে মতিয়ার চৌধুরীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স তার বাসভবন রমনা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে পৌঁছায়। সেখানে শেষ বিদায় জানাতে ভিড় করেন তার ভক্ত-অনুসারী ও স্বজনরা। এরপর সেখানে জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মতিয়া চৌধুরীর মরদেহ গুলশানের আজাদ মসজিদে নেয়া হয়।


জোহরের নামাজ শেষে মতিয়া চৌধুরীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে আজাদ মসজিদের দক্ষিণ পাশের গেটে মতিয়া চৌধুরীর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মতিয়া চৌধুরীর মামা মোস্তফা জামাল হায়দার জানান, সকালে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত মতিয়া চৌধুরীকে হাসপাতালে আনা হয়। ইসিজির পর চিকিৎসা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ব্যক্তিজীবনে ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মতিয়া চৌধুরী।

ইডেন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন মতিয়া চৌধুরী। ১৯৬৭ সালে ‘অগ্নিকন্যা’ নামে পরিচিত মতিয়া পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপে) যোগ দেন এবং এর কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭০ ও ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রচারণা, তদবির এবং আহতদের শুশ্রুষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন।

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়কালে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হন মতিয়া চৌধুরী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২১ সালে বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ দেয়।

শেরপুর-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য ১৯৯৬ ও ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ১ নম্বর প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মতিয়া চৌধুরী। এছাড়া ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। সবশেষ গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করলে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS