কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার গানে মুগ্ধ শ্রোতারা। তবে মঞ্চে তার অনবদ্য পরিবেশনার পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্ব, রসবোধ ও অনন্য স্টাইলও বরাবরই দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।এবার এক অনুষ্ঠানে সবার সঙ্গে হাত না মেলানোর মজার কারণ জানিয়ে উপস্থিত দর্শকদের হাসিতে মাতিয়ে তুললেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই শিল্পী।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় রুনা লায়লার বহুল প্রতীক্ষিত একক সংগীতানুষ্ঠান।অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রকর আফজাল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে আফজাল হোসেনকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান রুনা লায়লা।এ সময় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কিংবদন্তি এই শিল্পী বলেন, ‘আপনি আপনার ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে এসেছেন, এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।’
এরপর আফজাল হোসেনের সঙ্গে করমর্দন করেন রুনা লায়লা।আর সেই মুহূর্তেই নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় বলেন, ‘আমি কিন্তু সবার সঙ্গে হাত মেলাই না। কারণটা জেনে নেন- আংটিগুলো আছে না, এগুলো যদি হুট করে কেউ নিয়ে নেয়!’
রুনা লায়লার এমন মজার মন্তব্যে মুহূর্তেই হাসিতে ফেটে পড়ে পুরো মিলনায়তন। এরপর আরও রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু উনি (আফজাল হোসেন) তো নিরাপদ।’ তার এই স্বতঃস্ফূর্ত রসবোধে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরাও।
রুনা লায়লার হাতে থাকা হীরার আংটির সংগ্রহ নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। জানা যায়, মাত্র ১৫ বছর বয়সে করাচিতে মা আমিনা লায়লার কাছ থেকে পাওয়া একটি ডায়মন্ডের আংটি দিয়েই তার এই সংগ্রহের শুরু। পরবর্তী সময়ে সংগীতজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজের পছন্দে আরও অনেক হীরার আংটি সংগ্রহ করেন তিনি। মঞ্চে তার গান ও পরিবেশনার পাশাপাশি হাতে থাকা বাহারি আংটিগুলোও বরাবরই দর্শকদের নজর কাড়ে।
রুনা লায়লার বক্তব্যের পর স্মৃতিচারণ করেন আফজাল হোসেন। কিংবদন্তি এই শিল্পীকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবনের বিস্ময়গুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যারা আজও বিস্ময় হয়েই রয়ে গেছেন।’
বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরুর দিকের একটি স্মৃতিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন আফজাল হোসেন। অভিনয়জীবনের শুরুতে একদিন স্টুডিও থেকে বের হওয়ার সময় দূর থেকে প্রথমবার রুনা লায়লাকে দেখেছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তের অনুভূতি আজও তার মনে গেঁথে আছে বলে জানান।
আফজাল হোসেন আরও বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে অনেক তারকারই জৌলুস কমে যায়। কিন্তু রুনা লায়লা নিজেকে এমনভাবে ধরে রেখেছেন যে, চার দশক আগে যেমন তারকাদীপ্ত ছিলেন, আজও ঠিক তেমনই আছেন। তিনি সত্যিকার অর্থেই আকাশের তারকা।’
গান, ব্যক্তিত্ব আর তারকাদীপ্ত উপস্থিতিতে রুনা লায়লা যে আজও দর্শকদের কাছে সমানভাবে মুগ্ধতার নাম, অনুষ্ঠানের পুরো আয়োজনজুড়েই যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।