যমুনা ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী টুকুর

যমুনা ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী টুকুর

যমুনা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়ক পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ সময় তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে বেড়িবাঁধ নির্মাণে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করা হবে।পাশাপাশি পরিকল্পিত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজার সংলগ্ন শাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, ভাঙন রোধে এরই মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার জিও ব্যাগ এবং বড় আকারের টিউব জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।এতে আপাতত নদীভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ভূঞাপুর থেকে টাঙ্গাইল হয়ে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত একটি স্থায়ী ও পরিকল্পিত প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা বজায় রাখতে খাল ও নদী খনন কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও নাব্যতা বজায় থাকলে ভাঙনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মানুষের জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ, ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ. কে. এম. রেজাউল করিম, গোপালপুর থানার ওসি রুহুল আমিন এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS