পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বাংলাদেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং কথাবার্তা কারণে দেশটির সংস্থাগুলোর পক্ষে নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন হবে বিধায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ নজরুল যেটা বলেছেন, আমি এটাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। একজন ক্রিকেটার ওখানে সীমিত সময়ের জন্য যাবে, খেলবে, চলে আসবে। তার নিরাপত্তা যদি দেওয়া সম্ভব না হয় এবং সে কারণে তাকে স্পষ্টভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।তাহলে আমার টিম যাবে, শুধু তো টিম যাবে না, সমর্থকরাও যাবে; খেলা দেখতে যাবে, তাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে। আমরা কী করে বিশ্বাস করব, তারা নিরাপদে থাকবে?
তিনি বলেন, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর যে বাংলাদেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং কথাবার্তা চলছে, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে সত্যিকার অর্থে ভারতীয় সংস্থাগুলোর পক্ষে নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন হবে। সে হিসেবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিশ্বকাপ খেলব, তবে ভারতের বাইরে খেলব।
এ বছরের আইপিএলে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে খেলার কথা ছিল তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের।রেকর্ড মূল্যে (৯ কোটি ২০ লাখ রুপি) তাকে নিলামে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স-কেকেআর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছে সেটার রেশ ধরে হিন্দুত্ববাদীরা মোস্তাফিজকে খেলায় না নিতে কেকেআরের মালিক শাহরুখ খান ও টিম ম্যানেজমেন্টকে হুমকি দিতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে মোস্তাফিজকে বাদ দেয় কেকেআর।
এ নিয়ে বাংলাদেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।
পরে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অপারগতা জানিয়ে এবং বাংলাদেশের খেলাগুলোর ভেন্যু ভারত থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের আবেদন জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়।
‘ভারতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অন্যদিকে ভারত থেকে তেল ও চাল আমদানি করা হচ্ছে’—এ প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের স্বার্থ যেখানে আছে হাতে ধরে তো আমরা নষ্ট করতে যাব না। এখানে আমাদের স্বার্থ আছে না যাওয়াতে। কারণ আমাদের লোকজনের নিরাপত্তার প্রশ্ন।কাজেই আমাদের শর্ত না যাওয়াতে। আমরা আমাদের লোকজনদের পাঠাবো না। আমাদের চাল কেনার যদি স্বার্থ থাকে, যদি আমরা কমে দামে পাই এবং আমাদের কিনতেই হয় আমি কোনো সমস্যা দেখি না।
ভারতে বাংলাদেশের তিনটি কূটনৈতিক মিশনে ভিসা সেবা বন্ধের বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, (হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভের কারণে) যে মিশনগুলোতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, আমরা আপাতত ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখতে বলেছি। এটা নিরাপত্তার জায়গা।
পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নিয়ে কথাবার্তা চলছে।
এ সময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় একটি বহুপক্ষীয় ফোরামে যোগ দিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিনি ঢাকা ছাড়ছেন।