পে-স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি

পে-স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি

পে-স্কেলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হারে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ও সেক্টর ভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ, শ্রম আইনের শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী ধারাসমূহ বাতিল, গণতান্ত্রিক বিধিমালা প্রণয়ন, কর্মস্থলে দূর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ এবং বন্ধ কারখানাসমূহের শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুলের সঞ্চালনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সাধারণ সম্পদক নবকুমার কর্মকার, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আবু নাঈম খান বিপ্লব, কৃষি শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুজ্জামান টুটুল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কোহিনুর আক্তার কণা, কিবরিয়া হোসেন প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল শ্লোগান ছিল বৈষম্যের বিলুপ্তি। সেই অভ্যুত্থানের পরবর্তীতে যারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপালন করবেন তারা সেই চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করবেন সেটাই প্রত্যাশিত।সরকার ইতিমধ্যে পে-স্কেল ঘোষণা করেছেন। সেই পে-স্কেলের নিম্ন স্তরে কর্মরত একজন কর্মী মূল মজুরি ২০ হাজার হিসাবে মোট মজুরি পাবেন প্রায় ৩৫ হাজার টাকা যা শ্রমিক আন্দোলনের দীর্ঘদিনের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।

বক্তার বলেন, শ্রম আইন সংশোধন হয়ে মজুরি পূণঃনির্ধারণের সময় ৫ বছরের স্থলে ৩ বছর নির্ধারণ হওয়ায় অনেক শ্রম খাতের মজুরি পূণঃনির্ধারণের সময় হয়ে গেছে বা পরবর্তী কয়েকমাসে সময় হবে সেক্ষেত্রে এখনই মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রম আইন সংশোধনের সময় শ্রমিকের অধিকার সম্প্রসারিত হওয়ার পরিবর্তে প্রভিডেন্ড ফান্ড গঠনের আবেদন প্রক্রিয়া, যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির ক্ষমতা হ্রাস হওয়া এবং শ্রমিককে বঞ্চিত করার ধারাসমূহ বাতিল না হওয়ায় শ্রম আইন গণতান্ত্রিক চরিত্র লাভ করেনি। শ্রম আইনে শ্রমিকের যেসকল অর্জিত অধিকার সংকুচিত হয়েছে তা কিছুমাত্রায়পূরণ করতে বিধিমালায় শ্রমিক পক্ষের উত্থাপিত প্রস্তাব যথাযথভাবে যুক্ত করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ, যে সকল কারখানার মালিক নিজ স্বার্থ বিবেচনায় কারখানা বন্ধ করে দিলেও শ্রমিকদের পাওনা আইন নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন, সেই মালিকদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS